নজরবন্দি ব্যুরো: ইডির তলবে সাড়া দিয়ে শুক্রবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিলেন যুব তৃণমূলের সভানেত্রী সায়নী ঘোষ। এদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই সিজিও কমপ্লক্সে পৌঁছে যান তিনি। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত কুন্তল ঘোষের যোগসূত্র ধরেই সায়নীকে সমন পাঠানো হয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১ টার মধ্যে তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কী বললেন তৃণমূলের তারকা সদস্য।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর পর এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিজেপি বিরোধী জোট নিয়ে কটাক্ষ এবার অমিতের


শুক্রবার সকাল ১১ টা ২০ নাগাদ সিজিও কমপ্লক্সে আসেন সায়নী ঘোষ। কালো রঙয়ের গাড়ি থেকে নামেন তিনি। পরনে ছিল সাদা সালোয়ার কামিজ এবং সাদা ওড়না। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে যুব তৃণমূলের সভানেত্রী বলেন, “ভোট প্রচারে ব্যস্ত ছিলাম। ৪৮ ঘণ্টার নোটিসে ডাকা হয়েছিল। সশরীরে উপস্থিত হয়েছি। তদন্তে সবরকমভাবে সহযোগিতার চেষ্টা করব।” তৃণমূলের বহিষ্কৃত নেতা কুন্তল ঘোষের সঙ্গে সায়নীর চ্যাট ইডি আধিকারিকদের হাতে আসে। সেই সূত্র ধরেই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ায় টলি অভিনেত্রীর। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আজ ডেকে পাঠানো হয়। সায়নীকে বেশ কিছু জরুরী নথি সঙ্গে নিয়ে আসার কথাও বলা হয়েছিল। এদিন তিনি এগুলি এনেছেন কিনা সেবিষয়ে জানা যায়নি।

ইডির তলবের পরই আচমকা গায়েব হয়ে যান সায়নী। জানা যায়, তাঁকে দলীয় কোনও কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। এমনকি দলের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপেও সক্রিয় ছিলেন না তিনি। এরপরই সায়নীর হাজিরা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এনিয়ে বিরোধী দলগুলিও কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার খোঁচা দিয়ে বলেন, “যুব তৃণমূল নেত্রী বোধ হয় ভয় পেয়েছেন। এরপর সিনেমা বেরবে সায়নী অন্তর্ধান রহস্য। আমরা শুনেছি যুব তৃণমূল নেত্রী সায়নী যে গাড়ি চড়েন সেটাও কুন্তলের টাকায় কেনা। কিন্তু এরকম একজন অভিযুক্তের টাকায় কেন গাড়ি চড়েন সায়নী? সেই উত্তর শুরু উনি বলতে পারবেন।”



যদিও তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে সায়নীর আচমকাই গায়েব হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, “রথ, উল্টো রথ গেল, উপোস ছিল হয়ত, জগন্নাথ দেবের পুজোর ব্যাপার আছে। আমার ধারণা উল্টোরথে উপোস করেছিলেন, হয়তো দুর্বল হয়ে পড়েছেন।” তবে এই তলব নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন কুণাল। তাঁর দাবি, সায়নী ঘোষকে যে সময়ে তলব করা হচ্ছে তা বলেই দিচ্ছে যে এটা উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। ভোটের ঠিক আগেই কখনও অভিষেক কখনও তাঁর স্ত্রীকে ডাকা হচ্ছে। এছাড়া শাসক দলের নেতাদের মিথ্যে মামলায় ফাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হদিশ মিলল সায়নীর, নির্ধারিত সময়ের আগেই ED দফতরে যুব তৃণমূলের নেত্রী









