আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও রুশ তেল বাণিজ্য (Russian oil trade) নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভারতমুখী রুশ তেলবাহী জাহাজ (Russian oil ship to India) হঠাৎ মাঝসমুদ্রে ঘুরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন — ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রভাবেই কি নয়াদিল্লি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের পথে হাঁটছে?
ব্লুমবার্গ সূত্রে খবর, ‘Furia’ নামের একটি রুশ তেলবাহী জাহাজ, যা গুজরাটের সিক্কা বন্দরে পৌঁছনোর কথা ছিল, সেটিকে হঠাৎ দিক পরিবর্তন করতে দেখা গেছে। ৭ লক্ষ ৩০ হাজার ব্যারেল রুশ তেল বহন করছিল জাহাজটি। অক্টোবরের ২০ তারিখে রাশিয়ার প্রিমর্স্ক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ফুরিয়া। নভেম্বরের মাঝামাঝি ভারতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও, মঙ্গলবার হঠাৎই সেটিকে বালটিক সাগর থেকে মিশরের সাইদ বন্দরের দিকে রওনা দিতে দেখা যায়।
এই ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো তোলপাড় আন্তর্জাতিক মহল। কারণ, কয়েকদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন, ভারত খুব শিগগিরই রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে।”
যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সাফ জানিয়েছে, ট্রাম্প যেই ফোনকলের উল্লেখ করেছেন, “তেমন কোনও ফোনকল আদতে হয়নি।”
কিন্তু বাস্তবে ভারতমুখী রুশ জাহাজ মাঝসমুদ্রে ঘুরিয়ে দেওয়ার ঘটনা সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে —
ট্রাম্পের দাবিতে কি সত্যিই প্রভাবিত হল নয়াদিল্লি?
এদিকে, গত সপ্তাহেই মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার দুটি বৃহত্তম তেল সংস্থার উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা (US sanctions on Russian oil companies) জারি করেছে। পাশাপাশি, চিনও রাশিয়া থেকে তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। ফলে আমেরিকা-রাশিয়া দ্বন্দ্বের মধ্যে ভারত এখন এক সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছে।
ভারতের জন্য রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বরাবরই একটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক সিদ্ধান্ত। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পরেও গত দুই বছর ধরে সস্তায় রুশ তেল আমদানি করে ভারতীয় শোধনাগারগুলি বিশাল মুনাফা অর্জন করেছে। কিন্তু যদি এবার নয়াদিল্লি ট্রাম্প প্রশাসনের চাপে নীতি পরিবর্তন করে, তাহলে তার প্রভাব পড়বে দেশের জ্বালানি বাজার থেকে শুরু করে কূটনৈতিক সম্পর্ক পর্যন্ত।
রুশ তেল সরবরাহ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন। তাঁদের মতে, রুশ তেলের বিকল্প পাওয়া ভারতের পক্ষে কঠিন হবে, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল মূল্যে এখনই উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে আমদানি ব্যয় বাড়লে তা সরাসরি প্রভাব ফেলবে পেট্রোল-ডিজেলের দামে।
তবে সরকারি সূত্রের দাবি, আপাতত ভারত তার অবস্থান থেকে সরে আসছে না। বিদেশ মন্ত্রকের এক মুখপাত্র জানান, “ভারত সর্বদা নিজের জ্বালানি স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। রাশিয়া থেকে তেল আমদানি তারই অংশ।”
তবুও, ফুরিয়া জাহাজের দিক পরিবর্তন আন্তর্জাতিক তেলবাজারে এক নতুন সংকেত দিচ্ছে — রাজনৈতিক চাপের প্রভাব হয়তো শুরু হয়ে গিয়েছে।
পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন নির্ভর করছে নয়াদিল্লির পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর।



