তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হল। নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে এবার নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলেন Ritabrata Banerjee ও তাঁর অনুগামীরা। কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে গিয়ে তাঁরা দাবি করেছেন, দলের বিশেষ অধিবেশনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে এবং সেই সংক্রান্ত নথিও কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
ঋতব্রত শিবিরের দাবি, দলের গঠনতন্ত্র মেনে বিশেষ অধিবেশন ডেকে Arup Roy-কে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০ সদস্যের একটি নতুন জাতীয় কর্মসমিতিও গঠন করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, এর ফলে দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন ঘটেছে এবং নতুন সাংগঠনিক কাঠামো কার্যকর হয়েছে।
সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক Neelam Meena-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পাঁচ বিধায়কের প্রতিনিধি দল বিশেষ অধিবেশনের কার্যবিবরণী বা ‘মিনিটস’ জমা দেয়। প্রতিনিধি দলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, অরূপ রায় এবং আখরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “আমরাই আসল তৃণমূল। জোড়াফুল প্রতীক দাবি করার কোনও প্রশ্ন নেই। জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের বিষয়টি আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি এবং আমাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথাও অবহিত করেছি।”
এই রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই ঋতব্রত শিবিরের শক্তি আরও বাড়ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, সদ্য কালীঘাট শিবিরের জাতীয় কর্মসমিতি থেকে পদত্যাগ করা প্রাক্তন মন্ত্রী Jyotipriya Mallick বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। পাশাপাশি বজবজের প্রবীণ বিধায়ক Ashok Deb-ও এই শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে দিল্লিতেও সক্রিয় হয়েছে ঋতব্রত গোষ্ঠী। মঙ্গলবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে তাঁদের পক্ষ থেকে আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করেছে বলে জানা গিয়েছে। আগামী সপ্তাহে ছয় বিধায়কের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারে বলেও সূত্রের দাবি।
তবে এই পুরো প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে দাবি করেছে কালীঘাট শিবির। তাদের বক্তব্য, Mamata Banerjee-ই এখনও দলের বৈধ চেয়ারপার্সন এবং দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় কোনও পরিবর্তন হয়নি। সেই অবস্থান জানিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে পৃথকভাবে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
ফলে তৃণমূলের নেতৃত্ব ও দলীয় প্রতীক ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। কমিশনের সামনে দুই পক্ষের দাবি-দাওয়া জমা পড়ার পর আগামী দিনে এই বিরোধ কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।








