তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন করে সরব হলেন ‘আসল’ তৃণমূল দাবি করা শিবিরের অন্যতম মুখ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-কে ঘিরে আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত কিছু নথি তাঁদের হাতে এসেছে। সেই নথি নিয়ে চলতি সপ্তাহেই দিল্লিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাবেন বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের স্বাস্থ্য উদ্যোগ ‘সেবাশ্রয়’। তাঁর দাবি, এই প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে এবং সেই অর্থের একটি অংশ অন্যত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই অর্থের সঙ্গে কথিত ‘কেরল লবি’-র যোগ রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও সরকারি তদন্তে এখনও এমন সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আসেনি।
ঋতব্রতর আরও দাবি, কেরলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, বৈঠক এবং বিদেশে অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত একটি চক্রের বিষয়ে তাঁর কাছে কিছু নথি রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ওই নথির একটি অংশ চলতি সপ্তাহে প্রকাশ্যে আনতে পারেন। পাশাপাশি দিল্লিতে গিয়ে নির্দিষ্ট তদন্তকারী বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জমা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।
এর আগে ঋতব্রত শিবিরের আরেক নেতা তথা প্রাক্তন আইপিএস কর্মকর্তা প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (Prasun Bandyopadhyay)-ও তৃণমূলের অর্থ লেনদেন নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। তবে সেই অভিযোগগুলিও এখনও বিচারিক বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি।


এই ঘটনাপ্রবাহ এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও সাংগঠনিক অধিকার নিয়ে ‘কালীঘাট’ এবং ‘আসল’ তৃণমূল দাবি করা দুই পক্ষের মধ্যে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চলছে। সূত্রের খবর, দলের প্রতীক সংক্রান্ত মামলায় নির্বাচন কমিশনের কাছে অতিরিক্ত সময় না দেওয়ার আবেদনও করেছে তৃণমূলের মূল শিবির।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে তিনি যে অভিযোগগুলি তুলেছেন, সেগুলি এখনও অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা বা আদালত এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। এখন দিল্লিতে তাঁর সম্ভাব্য অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





