রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই মঙ্গলবার দিল্লিতে এনসিপিআই (NCPI)-এর সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। বৈঠকের সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন এনসিপিআই-র সংসদীয় দলের নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Bandyopadhyay)। তাঁর দাবি, বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক সমস্যা থেকে শুরু করে আসন্ন পুরসভা নির্বাচন— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া বহু সাংসদ এখনও নিজেদের লোকসভা এলাকায় স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না। তাঁর দাবি, অনেক রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থক এখনও ঘরছাড়া রয়েছেন এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এই বিষয়গুলি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হবে।
সুদীপের বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠকে আসন্ন পুরসভা নির্বাচন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনী প্রস্তুতি, সাংগঠনিক রণকৌশল এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেও দিল্লিতে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এনসিপিআই সাংসদদের বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর স্থগিত হওয়ায় সেই বৈঠক আর হয়নি। এবার নতুন করে বৈঠকের সূচি নির্ধারিত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ বেড়েছে।


রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, বৈঠকে সংসদে কোন কোন রাজ্য-সংক্রান্ত ইস্যুতে এনসিপিআই সাংসদরা সরব হবেন, সেই বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি সাংসদ তহবিলের অর্থ কোন কোন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যয় করা হবে, সেই বিষয়টিও আলোচনার তালিকায় থাকতে পারে বলে সূত্রের খবর। যদিও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও এজেন্ডা প্রকাশ করা হয়নি।
এরই মধ্যে এনসিপিআই-তে আরও দুই তৃণমূল সাংসদের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা তীব্র হয়েছে। সোমবার এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar) দাবি করেন, কালীঘাট শিবিরে থাকা আরও দু’জন সাংসদ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। যদিও তিনি কোনও নাম প্রকাশ করেননি এবং সংশ্লিষ্ট সাংসদদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


মঙ্গলবারের বৈঠকে এই রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও আলোচনা হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে শুভেন্দু অধিকারী ও এনসিপিআই সাংসদদের এই বৈঠককে ঘিরে দিল্লি ও রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর নজর রয়েছে।



