৮ অক্টোবরের মধ্যে ঋতব্রত-সহ ১০ বিধায়ক নিয়ে সিদ্ধান্ত, মুখ খুললেন স্পিকার

দলত্যাগ-বিরোধী আইনে ১০ বিধায়কের পদ খারিজের আবেদন ঘিরে ৮ অক্টোবরের মধ্যে সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বললেন স্পিকার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

হাতে সময় আর কয়েকদিন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১০ বিধায়কের বিধায়ক পদ খারিজের আবেদন নিয়ে ৮ অক্টোবরের মধ্যে সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই আবেদনের বিষয়ে শুক্রবার মুখ খুললেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিষয়টি মূলত দলত্যাগ-বিরোধী আইনে ১০ বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের আবেদনকে ঘিরে। গত ৮ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিধানসভার স্পিকারের কাছে এই আবেদন জানিয়েছিলেন। তিন মাসের সময়সীমা পূর্ণ হচ্ছে আগামী ৮ অক্টোবর।

মামলাটি নিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছিল, দলত্যাগ-বিরোধী আইনের অধীনে আনা বিধায়ক পদ খারিজের আবেদন যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা উচিত। ২০২০ সালের Keisham Meghachandra Singh মামলার রায় উল্লেখ করে আদালত সাধারণভাবে তিন মাসের সময়সীমার কথা জানিয়েছে।

সেই হিসাবেই ৮ জুলাই থেকে তিন মাস পূর্ণ হচ্ছে ৮ অক্টোবর। সুপ্রিম কোর্ট আশা প্রকাশ করেছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার ওই সময়ের মধ্যেই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে শীর্ষ আদালত নিজে ১০ বিধায়কের সদস্যপদ খারিজ বা বহাল রাখার কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।

শুক্রবার এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টকে বিষয়টি জানানো হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেই ঋতব্রতপন্থী ১০ বিধায়ককে নিয়ে সিদ্ধান্তের বিষয়টি আদালতে জানানো হবে বলে তাঁর বক্তব্য।

এর আগে আদালতের নির্দেশের সময় স্পিকার বিদেশ সফরে ছিলেন। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলির স্পিকারদের সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি কেপটাউন গিয়েছিলেন। পরে আটলান্টা ও লন্ডন সফর শেষে কলকাতায় ফেরেন।

সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া আবেদনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ১০ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করা হয়েছে। প্রকাশিত আদালত-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী তালিকায় রয়েছেন অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, শিউলি সাহা, আখরুজ্জামান, সাবিনা ইয়াসমিন, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র এবং জাভেদ আহমেদ খানও।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংঘাত প্রকাশ্যে আসে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একাংশ বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির থেকে পৃথক অবস্থান নেন। পরবর্তী সময়ে দলীয় নাম, প্রতীক এবং তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

এই বিরোধের মধ্যে নির্বাচন কমিশন ১৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করার কথা জানায়। দল ও প্রতীকের মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়টি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ওই নাম ও প্রতীক ব্যবহার নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়।

এদিকে ঋতব্রত-সহ ১০ বিধায়কের সদস্যপদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি এখন বিধানসভার স্পিকারের বিবেচনায় রয়েছে। ৮ অক্টোবরের মধ্যে সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে আগামী কয়েকদিনেই এই রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সামনে আসতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন