আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসক খুন ও ধর্ষণ মামলার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ এই সংক্রান্ত সমস্ত মামলা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বর্তমানে এই ধরনের ফৌজদারি মামলার শুনানি এই ডিভিশন বেঞ্চের আওতায় পড়ে না। ফলে মামলাগুলি কে শুনবেন, তা এখন প্রধান বিচারপতিই ঠিক করবেন।
বিচারপতি বসাক জানান, এই মামলার শুনানির জন্য আদালতে মেনশন করা হয়েছিল এবং প্রধান বিচারপতির কাছেও ই-মেল করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ শুনানির প্রয়োজন এমন মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি করা এই বেঞ্চের পক্ষে সম্ভব নয়। সেই কারণেই আরজি কর মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত আবেদন ও মামলা তারা রিলিজ বা ছেড়ে দিচ্ছেন।
এর ফলে এখন নতুন করে এই মামলার শুনানির দায়িত্ব কোন বেঞ্চ নেবে, তা নির্ধারণ করবেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ ওঠে, তাঁকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সঞ্জয় রাইকে দোষী সাব্যস্ত করে নিম্ন আদালত তাকে আজীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়।
তবে এই রায়ে সন্তুষ্ট নন নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা। তাঁদের অভিযোগ, তদন্তে আরও অনেক দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন ছিল। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে এবং প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করা দরকার।
এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট বা লোপাট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। সেই কারণেই সিবিআই তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্টে পৃথক মামলা দায়ের করেন চিকিৎসকের পরিবার।
সেই মামলাসহ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য মামলাও বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ থেকে রিলিজ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী শুনানি কোন বেঞ্চে হবে, তা নির্ধারণের অপেক্ষায় সকলেই।



