‘কাউকে ছাড়া হবে না, টাকা উদ্ধার হবে’, GTA দুর্নীতি নিয়ে পাহাড়ে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা

জিটিএ-র শিক্ষক নিয়োগ, পানীয় জল ও ১১টি বোর্ডে দুর্নীতির অভিযোগে কড়া পদক্ষেপের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। কালিম্পং সফর বাতিল হলেও উত্তরকন্যা থেকে দিলেন বড় ঘোষণা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

জিটিএ (GTA) দুর্নীতি নিয়ে এবার কড়া অবস্থান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় ভিডিও কনফারেন্সে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগ, পানীয় জল এবং জিটিএ-র অধীনে থাকা বিভিন্ন বোর্ডে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত হবে। তাঁর দাবি, দুর্নীতিতে জড়িত কাউকে রেয়াত করা হবে না; প্রয়োজনে FIR, গ্রেফতার এবং লুটের টাকা উদ্ধারের পদক্ষেপও করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, তৃণমূল জমানায় কথিত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জিটিএ-র বিভিন্ন প্রকল্প ও আর্থিক লেনদেনও তার আওতায় আসবে। ইতিমধ্যেই দুর্নীতি সংক্রান্ত কমিশন পাহাড়ে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছে বলে জানান তিনি।

জিটিএ নিয়ে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন এবং আরও কয়েকজন পদ ছেড়েছেন। পাশাপাশি জিটিএ-র বাজেট বাড়ানো হয়েছে এবং প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। রাজনৈতিক সমাধানের বিষয়টি চূড়ান্ত না হলেও পাহাড়ের উন্নয়নমূলক কাজ থেমে থাকবে না বলেই জানান তিনি।

তবে উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগেও কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, জিটিএ-র পানীয় জল প্রকল্প, শিক্ষক নিয়োগ এবং ১১টি বোর্ডে অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে FIR করা, গ্রেফতার এবং বেআইনি ভাবে নেওয়া টাকা উদ্ধার—সবই করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, পাহাড়ের উন্নয়ন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা—দুই দিকেই একসঙ্গে এগোতে চায় রাজ্য সরকার। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)-ও পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক করেছেন। স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান না হওয়া পর্যন্তও উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

এ দিন অবশ্য খারাপ আবহাওয়ার কারণে মুখ্যমন্ত্রীর কালিম্পং সফর বাতিল হয়ে যায়। হেলিকপ্টার নিয়ে কালিম্পংয়ে নামার চেষ্টা করা হলেও আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় পাইলট অবতরণ নিরাপদ নয় বলে জানান। প্রায় ১০ মিনিট চেষ্টা করার পর সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পাহাড়বাসীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সশরীরে দেখা করতে না পারায় তিনি দুঃখিত। এর আগে কার্শিয়ংয়ে সড়কপথে যাওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি আগামী দিনে ফের উত্তরবঙ্গে আসার কর্মসূচির কথা জানান।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২২ সেপ্টেম্বর কোচবিহার ও ডুয়ার্স যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ৬ অক্টোবরের আগেই ফের উত্তরবঙ্গে এসে দার্জিলিং ও কালিম্পং সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। জিটিএ এবং পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়ে সাংসদ রাজু বিস্তা (Raju Bista)-র একাধিক প্রস্তাব রয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

উন্নয়ন নিয়ে বড় প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার পাহাড়ের উন্নয়নে কাজ করবে এবং আগামী দিনে পাহাড়বাসী তার সুফল দেখতে পাবেন। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় কালিম্পং জেলায় ৮,৪৩৫ জনকে বাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

যাঁদের নিজস্ব জমি রয়েছে কিন্তু বাড়ি নেই, তাঁদের এই প্রকল্পের আওতায় বাড়ি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ একদিকে জিটিএ-র কথিত দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের বার্তা, অন্যদিকে আবাসন ও উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা—দুই দিকেই পাহাড়কে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানোর বার্তা দিল রাজ্য সরকার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন