আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ মোড়। স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে নেওয়া মামলা থেকে সরে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এবার থেকে মামলার শুনানি কলকাতা হাই কোর্টে হবে। একই সঙ্গে নির্যাতিতার বাবা-মাকেও মামলার স্টেটাস রিপোর্ট দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ
বুধবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ ও বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা-র ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। বেঞ্চ জানায়, মামলার যাবতীয় নথিপত্র কলকাতা হাই কোর্টে পাঠাতে হবে। কোন বেঞ্চে এবং কবে শুনানি শুরু হবে—তা এখনও নির্দিষ্ট নয়। তবে সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট বেঞ্চে মামলাটি বরাদ্দ করার জন্য।

সিবিআইকে রিপোর্ট শেয়ার করার নির্দেশ
শীর্ষ আদালত আরও জানিয়েছে, তদন্ত সংক্রান্ত সব স্টেটাস রিপোর্ট আদালত ও নির্যাতিতার পরিবারকে দিতে হবে। এর ফলে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে পরিবার নিয়মিত তথ্য পাবে—এটাই আদালতের উদ্দেশ্য বলে সূত্রের ইঙ্গিত।

ঘটনার পটভূমি
২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার হল থেকে এক ডাক্তারি পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার হয়। পরদিন তৎকালীন কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে হেফাজতে নেয় পুলিশ। ১৩ অগস্ট তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। ২৫ সদস্যের তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।


আন্দোলন ও বিচারপ্রক্রিয়া
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলন হয়। সেই প্রেক্ষিতেই ২০২৪ সালের অগস্টে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত মামলা নেয়। পরে তদন্ত ও বিচার এগোয়। ঘটনার ১৬২ দিনের মাথায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে শিয়ালদহ আদালত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে। ১৬৪ দিনের মাথায় তাঁর আমৃত্যু কারাবাসের সাজা ঘোষণা করা হয়।
সব মিলিয়ে, মামলার পরবর্তী পর্যায় এখন কলকাতা হাই কোর্টের হাতে। তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিয়মিত আপডেট—এই দু’টি দিকেই নজর রাখার বার্তা দিল শীর্ষ আদালত।








