আরজি কর কাণ্ডে তদন্তে যুক্ত হল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। নির্যাতিতার ভিসেরা নমুনা ও রিপোর্টে কারচুপির অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে শিয়ালদহ আদালত। নির্যাতিতার পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জানিয়েছে, মূল মামলার তদন্তের পাশাপাশি এই অভিযোগেরও পৃথকভাবে তদন্ত করবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। আদালতের এই নির্দেশে মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হল।
নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, সম্প্রতি বেলগাছিয়া ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির এক প্রাক্তন কর্মী তাঁদের কাছে একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, রাজ্য ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে নির্যাতিতার ভিসেরা নমুনা অদলবদল বা বিকৃত করা হয়েছে। পাশাপাশি, ল্যাবরেটরির তিনজন আধিকারিক এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলেও দাবি করা হয়।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্যাতিতার পরিবার শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ হয়। আদালতে চিঠিটি জমা দিয়ে ভিসেরা রিপোর্টে কারচুপির অভিযোগের তদন্তের আবেদন জানানো হয়। পরিবার পৃথকভাবে এই বিষয়টির তদন্তের দাবি তোলে।
তবে চিঠি পাঠানো ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেনি নির্যাতিতার পরিবার। জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার বাবার উদ্দেশে লেখা ওই চিঠিতে প্রেরক নিজেকে বেলগাছিয়া ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির প্রাক্তন কর্মী বলে দাবি করেছেন।
আবেদন শুনে শিয়ালদহ আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় বিচারক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দুটি নথি গোপনীয়ভাবে সিল করা খামে মামলার তদন্তকারী আধিকারিকের (আইও) কাছে পাঠাতে হবে, যাতে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।
পাশাপাশি আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, ওই নথিগুলির ফটোকপি সিল করা খামে সংরক্ষণ করে মামলার নথির সঙ্গে রাখতে হবে। তদন্তের স্বার্থে সমস্ত প্রক্রিয়া গোপনীয়তা বজায় রেখে সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশের ফলে আরজি কর কাণ্ডে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হল। এখন ভিসেরা রিপোর্টে কোনও ধরনের কারচুপি বা প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা সিবিআই তদন্তে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায়।



