অন্নপূর্ণা যোজনা-র টাকা এখনও অনেকের অ্যাকাউন্টে না পৌঁছানোয় রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মেচেদায় বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক কিছু সমস্যার কারণে সাময়িক বিলম্ব হলেও নিয়ম মেনেই সমস্ত যোগ্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছে যাবে।
রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র দু’মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্নপূর্ণা যোজনা অন্যতম। ইতিমধ্যেই বহু মহিলা এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন, তবে এত বড় পরিসরে পরিষেবা চালুর সময় কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি হওয়া অস্বাভাবিক নয় বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রশাসন ধাপে ধাপে সমস্ত আবেদন যাচাই করছে এবং যোগ্য প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর কাজ চলছে। কোনওভাবেই বৈষম্য করা হবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি আরও জানান, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তাই কোনও যোগ্য আবেদনকারী যাতে বঞ্চিত না হন, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার বিষয়েও বড় বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ৭০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অতিরিক্ত শর্ত থাকবে না। যাঁরা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আসবেন না, তাঁদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা-র মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, রেজিনগরের সভা থেকেই ঘোষণা করা হয়েছে যে, রাজ্যের কোটি কোটি মানুষকে আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধার আওতায় আনা হবে। আর যাঁরা সেই তালিকায় থাকবেন না, তাঁদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা দেওয়া হবে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, অন্য রাজ্যেও যাতে এই বিমার সুবিধা ব্যবহার করা যায়, সেই ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বর্তমানে আয়ুষ্মান ভারতের জন্য ফর্ম পূরণের কাজ চলছে। কে কে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, তা দূর করতেই সরকারের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনা হোক বা স্বাস্থ্যবিমা—যোগ্য কোনও মানুষকে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে না।



