UFO Files ঘিরে ফের তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের প্রাক্তন UFO তদন্তকারী লুই এলিজোন্দোর দাবি, চাঁদের পৃষ্ঠে মোনোলিথ বা বিশাল প্রস্তরস্তম্ভের মতো একাধিক রহস্যময় কাঠামোর ছবি রয়েছে, যা এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। যদিও এই দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি এবং NASA-ও এমন কোনও ছবি পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।
সম্প্রতি Disclosure with Thomas Fessler অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে লুই এলিজোন্দো বলেন, তাঁর জানা মতে এমন কিছু ছবি রয়েছে যেখানে চাঁদের মাটিতে অস্বাভাবিক আকারের মোনোলিথ-সদৃশ কাঠামো স্পষ্ট দেখা যায়। তাঁর দাবি, ছবিগুলি বিশেষ কোণ থেকে তোলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেগুলি প্রকাশ্যে আসতে পারে।
এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ১৯৬৮ সালের বিখ্যাত বিজ্ঞানভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘2001: A Space Odyssey’। সেই ছবিতে চাঁদের বুকে রহস্যময় মোনোলিথ দেখানো হয়েছিল, যা মানব সভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত বলে কল্পনা করা হয়। তবে বাস্তবের সঙ্গে সেই চলচ্চিত্রের কোনও বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
লুই এলিজোন্দোর বক্তব্যকে অনেকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁর পেশাগত অতীতের কারণে। তিনি একসময় পেন্টাগনের Advanced Aerospace Threat Identification Program (AATIP)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুর (UAP/UFO) তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন। তবে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য এখনও ব্যক্তিগত দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কার কিছু অবিকৃত UFO Files প্রকাশ্যে এসেছে। সেই নথিতে বহু দশক পুরনো একাধিক রহস্যময় উড়ন্ত বস্তুর উল্লেখ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক গতিবিধি ও আকৃতি পরিবর্তনের বর্ণনাও রয়েছে, যা নিয়ে গবেষণা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। তবে এসব নথিতে কোথাও ভিনগ্রহের প্রাণ বা এলিয়েনের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়নি।
লুই আরও দাবি করেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও রাশিয়া ও চিন রহস্যময় উড়ন্ত বস্তুর ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করে সেগুলি নিয়ে গবেষণার চেষ্টা করেছে। এমনকি ১৯৪৭ সালের একটি বহুল আলোচিত UFO দুর্ঘটনার ধ্বংসাবশেষ নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। তবে এসব দাবির স্বাধীন বৈজ্ঞানিক বা সরকারি যাচাই এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
এদিকে NASA-র এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সংস্থার হাতে চাঁদের পৃষ্ঠে মোনোলিথের মতো কোনও কাঠামোর প্রমাণ বা ছবি নেই। ফলে বিষয়টি আপাতত দাবি ও পাল্টা দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ভবিষ্যতে যদি নতুন কোনও তথ্য বা সরকারি নথি প্রকাশ্যে আসে, তবেই এই রহস্য নিয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।



