আরজি কর কাণ্ডের পর অভয়ার সুবিচারের দাবিতে যে আন্দোলন রাজপথে গড়িয়েছিল, তার সঙ্গে রাজনীতির যোগ নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস বারবার অভিযোগ করেছিল, এই ঘটনার আবেগকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে বিজেপি। বুধবার সেই অভিযোগকেই কার্যত আরও জোরালো করলেন অভয়ার বাবা। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য—বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার রাজনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতেই বিজেপির সঙ্গে তাঁদের দূরত্ব বেড়েছে।
আরজি কর কাণ্ডের পর অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবিতে পথে নেমেছিল বঙ্গ বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একাধিকবার অভয়ার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে সেই যোগাযোগ কার্যত থমকে গিয়েছে। বুধবার এই প্রসঙ্গে মুখ খুলে অভয়ার বাবা জানান, বিজেপির তরফে একটি রাজনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তাতে তাঁরা রাজি হননি। যদিও তিনি সরাসরি প্রস্তাবের বিষয়বস্তু প্রকাশ করতে চাননি।


তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে অভয়ার মা অথবা বাবাকে প্রার্থী করার প্রস্তাব দিয়েছিল বিজেপি। সেই প্রস্তাবে সম্মতি না মেলায় সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়। অভয়ার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, গত বছরের আগস্টে তাঁদের ডাকে নবান্ন অভিযানের পর থেকেই ধীরে ধীরে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে।
অভিযোগ উঠেছে, এমনকি একদিন ফোন করে সল্টলেকের বিজেপি পার্টি অফিসে ডেকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করানো হলেও শেষ পর্যন্ত দেখা না করেই অভয়ার বাবা-মাকে ফিরে আসতে হয়। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে সংযত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অভয়ার বাবা। তাঁর কথায়, “যে আমাদের রাজনৈতিক প্রস্তাব দেবে, তার সঙ্গে আমরা কোনও সম্পর্ক রাখব না। শুধু বিজেপি নয়, একাধিক দল আমাদের ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এমনকি উপনির্বাচনেও প্রার্থী হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তখনই আমরা বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছি।”
অভয়ার বাবার আরও স্পষ্ট বক্তব্য, ন্যায়বিচার পাওয়ার একমাত্র পথ আদালত। তিনি বলেন, “আমরা ভালো করেই জানি, আদালতেই লড়াই করে আমাদের সুবিচার আদায় করতে হবে। রাজনীতির পথে নয়।”


এরই মধ্যে চলতি মাসের শেষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বঙ্গ সফরের কথা জানা গিয়েছে। অভয়ার বাবা জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে দেখা করার আবেদন জানিয়ে ইতিমধ্যেই ই-মেল পাঠানো হয়েছে। তবে এই সাক্ষাৎ নিয়ে কোনও প্রত্যাশা বেঁধে রাখতে চান না তাঁরা। অভয়ার বাবার কথায়, “আগেও দেখা করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সাক্ষাৎ হয়নি। যদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে অনুমতি মেলে, তবেই দেখা করতে যাব।”







