নজরবন্দি ব্যুরোঃ ওজন কমানো সবচেয়ে ঝক্কির কাজ। তারপর সেটা যদি হয় এই বর্ষাকালে তাহলে তো কোন কথায় নেই। বর্ষায় Diet ভাবলেই কেমন লাগে! বর্ষাকালে তেলেভাজা, মশলাদার খাবারের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয় স্বাভাবিক কারণে। বাইরে অনবরত বৃষ্টি আর ঘরে বা অফিসে সন্ধ্যেতে পকোড়া, সিঙ্গারা, কচুরি, তেলেভাজা না হলে বর্ষার সন্ধ্যেগুলো যেন কাটতেই চায় না। কিন্তু তখন ডায়েট? তার কথা ভুলেই যায় আকেবারে।
আরও পড়ুনঃ শুধু ওজন নয় মন খারাপেও সমান কার্যকরী ওট্স, কখন, কতটা পরিমাণ আপনার জন্যে উপকার জানুন
এদিকে সবচেয়ে ভাল হয় রাস্তার ধারে যে স্টলগুলি থাকে, সেখান থেকে এমন ভাজাভুজির স্বাদই যেন আলাদা। তেঁতুলের টাটনি, ঝাল চিলি সস সহযোগে এই তৈলাক্ত খাবার খাওয়া তো চলতেই থাকবে। কিন্তু এর কারণে কী ঘটতে পারে, তা জানেন? ঋুতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে এই সময় মরসুমি সবজি ও ফল না খেলে ইমিউনিটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বিশেষ করে নজর রাখা উচিত বর্ষাকালে।

যারা এই বর্ষাতেও ডায়েট মেনে চলতে চান ওজন কমাতে চাইলে তার জন্য দরকার সঠিক পরামর্শ। নিয়মিত ওয়ার্কআউট করতে হবে সেটা জানা। কোনটা খাওয়া উচিত আর কোনটা নয়, তা বের করতেই কালঘাম ছুটে যাওয়ার অবস্থা এই সময়। চিন্তা নেই। বর্ষায় ওজন কমাতে এখানে একটা সহজ ডায়েট প্ল্যান নিয়ে আলোচনা করা হল। এটা মাসে প্রায় ৫ থেকে ৬ কেজি ওজন কমাতে সাহায্য করবে। এখন যা করতে হবে তা রইল এখানে।
সকালের রুটিন: ভোরে ঘুম থেকে ওঠাটাই তো সবচেয়ে কষ্টের। তবে এই ডায়েট প্ল্যান মেনে চললে ঘুম থেকেও তাড়াতাড়ি ওঠা যাবে। আসলে এটা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে পেট সবসময় ভরা থাকে। এজন্য ভোরে উঠেই একটা পানীয় তৈরি করে নিতে হবে। এটা একটু মজার। একটা প্যানে জল নিয়ে ৫টা আমন্ড এবং ২-৩টি খেজুর সেদ্ধ করে নিতে হবে। এবার প্রথমে জলটা খেতে হবে, তারপর আমন্ড এবং খেজুর। এটা সারাদিনের পুষ্টি পূরণ করবে। শুধু তাই নয়, চিনি খাওয়ার ইচ্ছেও কমাবে। কারণ খেজুর প্রাকৃতিক চিনিতে ভরপুর।

প্রাতঃরাশ: সকাল সাড়ে আটটার সময় প্রাতরাশ। পাতে থাকবে ওটস। একটা বাটিতে হাফ কাপ ওটস, ১-২ চামচ গুড় বা মধু, হাফ কাপ দই বা বাদাম দুধ ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর তাতে ১ চা চামচ শিয়া বীজ দিয়ে আরেকবার মেশাতে হবে। এবার সারারাত সেটা রাখতে হবে ফ্রিজে। সকালে জলখাবারের আগে ফ্রিজ থেকে বের করে আম, কলা, বেরি বা আপেলের সঙ্গে এটা খেতে হবে। সকাল সাড়ে এগারোটা-বারোটার দিকে খিদে পেলে একটু নারকেল খাওয়া যায়। এটা পেট ভরা রাখতে সাহায্য করবে।

মধ্যাহ্নভোজ: দুপুরের খাবার দুপুর ১টা থেকে ২টোর মধ্যে খেতে হবে। নাহলে পুরো ডায়েট প্ল্যানটাই মাটি। দুপুরে পাতে থাকবে যে কোনও ডাল ১ কাপ, ১ বাটি ভাপানো চাল, ১ বাটি রায়তা এবং একবাটি স্যালাড। এটা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরা থাকবে।
সন্ধ্যা: সন্ধ্যার জন্য, গুড় বা ব্রাউন সুগার দিয়ে এক কাপ মসলা চা। ১ চামচ ঘিতে সামান্য বাদাম কিংবা মাখানা ভাজা যায়। ব্যস, এটাই সন্ধ্যার জল খাবার।
বর্ষায় Diet ভাবলেই কেমন লাগে! তবে এই নিয়ম মেনে চললে মাসে ওজন কমবে ৫-৬ কেজি গ্যারান্টি

ডিনার: রাতের খাবারের জন্য, একটি বেরি স্মুদি তৈরি করা যায়। এটা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। আমের স্মুদিও খাওয়া যায়, তবে আম এমন একটি ফল যা ক্যালোরি সমৃদ্ধ তাই এটি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
ঘুমোনোর আগে: ঘুমোনোর আগে এক কাপ গ্রিন টি। এটা শরীরকে ডিটক্সিফাই করবে। রাতের ঘুমও ভালো হবে।



