নজরবন্দি ব্যুরো: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্য অধীনস্থ তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি-র তদন্তে ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। এদিনের শুনানিতে আদালতে অস্বস্তিতে পড়তে হল রাজ্যকেও। ভুয়ো নিয়োগপত্র বানিয়ে নিজের স্কুলেই ছেলেকে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই দুর্নীতির তদন্তভার সিআইডিকে দিয়েছিল আদালত। কিন্তু তদন্তের অগ্রগতি না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি।
আরও পড়ুন: বাঁকুড়ার পর এবার CBI স্ক্যানারে কোচবিহার, ৩০ শিক্ষককে তলব নিজাম প্যালেসে


ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের সুতির। এক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত শুরু করলেও এদিন গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। বুধবারের (৯ আগস্ট) পর বৃহস্পতিবার ফের এই মামলার শুনানি চলে। বিচারপতি বসু বিরক্ত হয়ে বলেন, “‘আদালত ভরসা রেখেছিল, কিন্তু সিআইডি তদন্তে কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।” প্রসঙ্গত, এই দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের জন্য আদালত একটি সিট গঠন করেছিল। কিন্তু সিটের সদস্যদেরও ইচ্ছেমত বদল করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে অস্বস্তিতে পড়ে রাজ্য। সিআইডি-র তদন্তকারীদের সব সদস্যদের নাম বলতে পারল না রাজ্য।
এনিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি বসু। তাঁর প্রশ্ন, আদালতের নির্দেশে যে সিট গঠিত, সেই সিটের সদস্যদের কীভাবে ইচ্ছামতো বদল করে দেওয়া যায়?এছাড়াও তিনি কড়া সুরেই বলেন, হাইকোর্টের অনুমতি ছাড়া ইচ্ছামতো সিটের সদস্যদের কীভাবে বদল করা হয়েছে? পাশাপাশি সিআইডি তদন্তের গোটা প্রক্রিয়ায় পরিচালনায় বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে বলে মতপ্রকাশ করেন বিচারপতি। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এই ঘটনার যখন সামনে আসে, তখন সিবিআই-এর বদলে সিআইডি-কেই ভরসা করে তদন্তভার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আশানুরূপ ফল দেখা যাচ্ছে না।



বিচারপতি বিশ্বনাথ বসু আরও বলেন, “আপনি কি আমাকে ভুল প্রমাণ করতে চান?” আপনি কি অপেক্ষা করছেন, কখন সবাই আপনার হাতে নথি তুলে দেবে?” যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা এখনও কীভাবে বেতন পাচ্ছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। সিআইডি-র তরফে তদন্তকারী আধিকারিক জানান, তদন্ত চলছে। সমস্ত কিছুই নথিবদ্ধ হচ্ছে। পাশাপাশি তদন্তের গতি না বাড়লে তদন্তভার হস্তান্তর করতে সময় লাগবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
নিয়োগ দুর্নীতিতে CID তদন্তে ক্ষুব্ধ বিচারপতি, হাইকোর্টে অস্বস্তিতে রাজ্যও!








