পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির তলবে হাজিরা দিতে গিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ। জনতার ক্ষোভ, নির্বাচনী ফলাফল এবং দলের বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের মুখে তিনি স্বীকার করলেন, কোথায় ভুল হয়েছিল তা বুঝতে পারলে পরিস্থিতি অন্যরকমও হতে পারত।
সোমবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে পৌঁছন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ। পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্তে তাঁকে আবারও ডেকে পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। দফতরে প্রবেশের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি।


সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক তৃণমূল নেতাকে ঘিরে জনরোষ এবং দলের নির্বাচনী ধাক্কা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রথীন বলেন, মানুষ কেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, সেই কারণগুলি সঠিকভাবে বোঝা গেলে অনেক কিছুই বদলানো সম্ভব হতো। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যেতে চাননি। শুধু জানান, জনগণ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা মেনে নিতেই হবে।
সম্প্রতি সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা এবং অন্যত্র তৃণমূল নেতাদের ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। সেই আবহেই রথীনের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
রবিবার কালীঘাটে দলের বিধায়কদের নিয়ে ডাকা বৈঠক প্রসঙ্গেও প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। রথীন জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আশাবাদী বলেই জানিয়েছেন।


এদিন রাজ্যের সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় নতুন মুখদের শপথগ্রহণ নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন রথীন। তিনি নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে ভবিষ্যতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তাঁদের সহযোগিতা পাবেন বলেই আশা করছেন।
ইডির তদন্ত প্রসঙ্গে রথীন ঘোষ জানান, তদন্তকারী সংস্থা যে নথিপত্র চেয়েছিল, তা তিনি সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। ডাকা হয়েছে বলেই তিনি হাজিরা দিতে এসেছেন বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল বিধায়ক।
উল্লেখ্য, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এর আগেও একাধিকবার রথীন ঘোষকে তলব করা হয়েছিল। নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে কয়েকবার তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। তবে ভোট পর্ব শেষ হওয়ার পর তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য তিনি ইডির সামনে উপস্থিত হয়েছেন।
রাজনৈতিক টানাপোড়েন, জনরোষ এবং তদন্ত—সব মিলিয়ে রথীন ঘোষের এই মন্তব্য রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



