সোনা কিনতে চাইছেন? তাহলে আপনার জন্য সুখবর। টানা মূল্যবৃদ্ধির পর এবার বাজারে অনেকটাই নরম হয়েছে সোনার দাম। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এবং বিনিয়োগকারীদের অবস্থান পরিবর্তনের জেরে দেশীয় বাজারেও কমেছে হলুদ ধাতুর দর। ফলে বিয়ে, অন্নপ্রাশন বা অন্যান্য শুভ অনুষ্ঠানের আগে ক্রেতাদের মুখে ফিরেছে হাসি।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার উপর চাপ তৈরি হয়েছে। মার্কিন ডলারের ওঠানামা, সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশার পরিবর্তন এবং মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার কারণে সোনার দামে সংশোধন দেখা গিয়েছে। সেই প্রভাবই ধরা পড়েছে দেশের খুচরো বাজারে।


বর্তমানে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ১৪,৭৩৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ১২,১০০ টাকা বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি এক কেজি রুপোর দাম দাঁড়িয়েছে ২,৬৪,১৭৪ টাকা। তবে এই মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ জিএসটি যোগ হবে, ফলে চূড়ান্ত দাম কিছুটা বেশি হতে পারে।
সোনার দাম কমার ফলে গয়না কেনার পরিকল্পনা থাকা পরিবারগুলির খরচ আগের তুলনায় কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে বিয়ের মরশুমের আগে এই মূল্যপতন ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর।
তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সোনার দাম প্রতিদিনই পরিবর্তিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের শক্তি, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সুদের হার, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের চাহিদার উপর নির্ভর করে এই দাম ওঠানামা করে।


বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধুমাত্র দামের পতন দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা মাথায় রাখা উচিত। একবারে বড় অঙ্ক বিনিয়োগের পরিবর্তে ধাপে ধাপে সোনা কেনার কৌশল অনেক ক্ষেত্রেই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে সোনার দাম বেড়েছে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী এখন অন্যান্য সম্পদের পাশাপাশি সোনাকেও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছেন। সাম্প্রতিক মূল্যপতন সেই বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে বলেই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
তবে সোনা কেনার আগে স্থানীয় বাজার বা জুয়েলারি দোকানে সর্বশেষ দর যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ শহরভেদে এবং দোকানভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



