রাজ্যসভার নতুন সমীকরণ নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার তিনটি আসনে বিজেপি-সমর্থিত প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা পড়ার পর উচ্চকক্ষের সংখ্যার অঙ্কে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই তিন প্রার্থী নির্বাচিত হলে বিজেপির সাংসদ সংখ্যা বেড়ে হবে ১১৭। ফলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১২৩ আসনের থেকে দলটি থাকবে মাত্র ছয়টি আসন পিছিয়ে।
মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সুস্মিতা দেব, প্রকাশচিক বরাইক এবং সুখেন্দুশেখর রায়। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী তাঁদের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্যসভায় বিজেপির শক্তি সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছবে।
এই পরিবর্তনের ফলে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-এর মোট আসনসংখ্যাও বেড়ে প্রায় ১৫২-এ পৌঁছতে পারে। সাধারণ আইন পাসের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
তবে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার খুব কাছে পৌঁছে গেলেও সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করানো এখনও সহজ হবে না। কারণ, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। যদি সব সদস্য ভোটে অংশ নেন, তাহলে প্রায় ১৬৬ জনের সমর্থন লাগবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে সীমানা পুনর্বিন্যাস, মহিলা সংরক্ষণ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনী বিল সংসদে এলে কেন্দ্রকে এখনও মিত্র ও ইস্যুভিত্তিক সমর্থনকারী দলগুলির সহযোগিতার উপর নির্ভর করতে হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে কয়েকটি আঞ্চলিক দলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যেমন, ওয়াইএসআর কংগ্রেস-এর চারজন সদস্য নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে কেন্দ্রকে সমর্থন করতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। একইভাবে ডিএমকে-র সদস্যদের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যদিও কোনও দলই এখনও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বিল নিয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান ঘোষণা করেনি।
রাজ্যসভার এই নতুন অঙ্ক আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকারের আইন প্রণয়নের কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সাধারণ বিল পাসের ক্ষেত্রে সরকার আরও স্বস্তির জায়গায় পৌঁছলেও, সাংবিধানিক সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা এখনও বহাল থাকবে।



