রাজু বিস্তার কনভয়ে ইটবৃষ্টি! দার্জিলিঙে ফের উত্তেজনা, বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর হামলা

ধস বিধ্বস্ত এলাকা ঘুরে ফেরার পথে সুখিয়াপোখরিতে বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তার কনভয় লক্ষ করে হামলা, উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দার্জিলিঙে ফের উত্তেজনা ছড়াল রাজনীতি ও আইনশৃঙ্খলা ঘিরে। শনিবার সন্ধ্যায় বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে BJP MP রাজু বিস্তার (Raju Bista) কনভয় লক্ষ্য করে ছোড়া হল একের পর এক ইট ও পাথর। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

জানা গিয়েছে, দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা ওই দিন রিম্ভিক ও লোধামায় ধস বিধ্বস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন। এরপর ফেরার পথে সুখিয়াপোখরির কাছে তাঁর কনভয়ের উপর হামলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কিছু লোক হঠাৎ করেই কনভয়ের দিকে ইট-পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। এতে সামনের কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক খবর। তবে রাজু বিস্তা যে গাড়িতে ছিলেন, সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া
এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তরবঙ্গের রাজনীতি। বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ করেছে, “রাজ্য প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই সাংসদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি।” রাজু বিস্তার ঘনিষ্ঠ মহল জানায়, তিনি এলাকায় বিপর্যয় মোকাবিলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফেরার পথে হামলা হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিছু মানুষ হঠাৎ করে উত্তেজিত হয়ে এই হামলা চালায়। তবে কে বা কারা এই হামলার পিছনে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করার জন্য এলাকায় সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গে বিজেপি নেতাদের উপর হামলার ধারাবাহিকতা
এই ঘটনা আলাদা নয়। কয়েকদিন আগেই জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় BJP MP খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ-এর উপর বিক্ষুব্ধ জনতা চড়াও হয়েছিলেন। অভিযোগ, কয়েকশো মানুষ লাঠি, জুতো এবং নদীর পাথর নিয়ে তাঁদের গাড়িতে হামলা চালায়।

এই ঘটনায় গুরুতর জখম হন সাংসদ খগেন মুর্মু। বাঁ চোখের নীচে আঘাত পেয়ে তাঁর মুখ থেকে রক্তপাত শুরু হয়। বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও ধাক্কা খেয়ে হাতে চোট পান। দু’জনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে শঙ্করকে ছেড়ে দেওয়া হলেও খগেন মুর্মু এখনও চিকিৎসাধীন আছেন।

রাজনৈতিক তীব্রতা ও কেন্দ্র-রাজ্যের মুখোমুখি অবস্থান
খগেন মুর্মু ও শঙ্কর ঘোষের উপর হামলার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রকাশ্যে নিন্দা করেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে রাজ্য সরকার ও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে দোষারোপ করেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে বিরোধীদের উপর পরিকল্পিত আক্রমণ চলছে।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, “প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়ও রাজনীতি করছেন প্রধানমন্ত্রী।” তিনি শান্ত থাকার বার্তা দেন এবং কাউকে প্ররোচনায় পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দার্জিলিঙে রাজু বিস্তার কনভয়ে হামলা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
রাজু বিস্তার কনভয়ের উপর হামলা উত্তরবঙ্গে প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে জনগণের ক্ষোভ, স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রশাসনিক ঘাটতির মিশ্রণই এই ধরনের ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন হামলার ঘটনায় শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, প্রশাসনিক দায়বদ্ধতাও খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ সাংসদ ও বিধায়কদের কনভয়ে হামলার মতো ঘটনা শুধু রাজনৈতিক বার্তাই নয়, আইনশৃঙ্খলার অবনতিরও ইঙ্গিত দেয়।

পুলিশের ভূমিকা ও তদন্তের দিক
পুলিশ জানিয়েছে, সুখিয়াপোখরি এলাকায় তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে ড্রোন ফুটেজ ও স্থানীয় সিসিটিভি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে, দ্রুতই দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার ছায়া বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে
দার্জিলিঙ, নাগরাকাটা বা জলপাইগুড়ি—প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে এখন রাজনৈতিক সংঘাতের ছায়াও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ধস, বন্যা ও পরিকাঠামোগত বিপর্যয়ের মধ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রের রাজনৈতিক টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, “উত্তরবঙ্গ এখন রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকা। এখানে যে কোনও প্রশাসনিক ব্যর্থতা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহজেই রাজনৈতিক সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন