নজরবন্দি ব্যুরোঃ দিল্লির ১২ তুঘলক লেন। ২০০৫ সাল থেকে এটাই পাক্তন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর এতদিনের ঠিকানা ছিল। কিন্তু শনিবারের পর আর সেই ঠিকানার নিবাসী থাকছেন না রাহুল গান্ধী। সংসদের তরফে তাঁর সাংসদ পদ খারিজের পরেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাঁর বাংলো খালি করে দেওয়ার জন্য। সেই নির্দেশ মেনেই বাংলো খালি করে দিলেন রাহুল।
আরও পড়ুনঃ Tapas Saha: ৪ বছরে ৪০ কোটি টাকার মালিক, দলের সতীর্থ টিনার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তাপস
শনিবার থেকে দুই বার বাংলো ঘুরে গেছেন রাহুল গান্ধী। সঙ্গে ছিলেন তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। সূত্রের খবর, ৩ টে নাগাদ বাংলোর চাবি হস্তান্তর করেন রাহুল গান্ধী। কিছুদিন আগেই তাঁকে বাংলো খালি করে দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছিলেন সিআর পাতিল। একমাসের মাথায় নির্দেশ মেনে বাংলো খালি করলেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে নির্বাচনের প্রচার করতে গিয়ে মোদি পদবীর কথা উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী বলেন, সব চোরেদের পদবি মোদীই কী করে হয়। এতে মোদি সম্প্রদায়ের সকলের মর্যাদাহানি হয়েছে। এমনটাই অভিযোগ দায়ের করেন এক বিজেপি নেতা। এরপর মানহানি মামলার রায় দিয়ে রাহুলকে দোষী সাব্যস্ত করে সুরাতের একটি ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের আদালত। তাঁকে ২ বছরের কারাদণ্ডের সাজা শোনানো হয়।

২৩ মার্চ সুরাট আদালতের তরফে ফৌজদারি মানহানি মামলায় রাহুল গান্ধীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং দুই বছরের কারাদণ্ডের সাজা ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তারই ভিত্তিতে ২৪ মার্চ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ভারতীয় সংবিধানের ১০২(১)-ই অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (১৯৫১)-র ৮(৩) নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাহুলের সাংসদ পদ খারিজ করেছিলেন।
ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গত ৩ এপ্রিল সুরাতেরই দায়রা আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। বিচারক আরপি মোগেরা তা গ্রহণ করে রাহুল গান্ধীর জামিন মঞ্জুর করেন। কিন্তু সে দিন দায়রা আদালত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বিচারক এইচএইচ বর্মার রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দেয়নি।
বাংলো খালি করে দিলেন রাহুল, কোথায় উঠবেন তিনি?

নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুরাত আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন রাহুল। কিন্তু রাহুল গান্ধীর আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। এখন সাংসদ পদ টিকিয়ে রাখার জন্য শুধুমাত্র হাইকোর্টের রাস্তাই খালি রয়েছে রাহুল গান্ধীর জন্য।



