টলিপাড়ার শোক যেন আরও গভীর হচ্ছে। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক মৃত্যুর পর একের পর এক স্মৃতিচারণে উঠে আসছে তাঁর মানুষের দিকটা। সহকর্মী নন—“ভাই” বলেই তাঁকে মনে করতেন তাঁর ঘনিষ্ঠরা। আর সেই মানুষটিকেই হারিয়ে আজ ভাষাহীন সকলে।
অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, রাহুলের সঙ্গে পরিচয়ের শুরু বহু বছর আগে, জনপ্রিয় ছবি চিরদিনই তুমি যে আমার-এর সময় থেকে। সেই ছবিই তাঁদের সম্পর্কের সূত্রপাত, যা ধীরে ধীরে গভীর বন্ধুত্বে পরিণত হয়।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন,
“রাহুল শুধু সহকর্মী ছিল না, আমার ভাই ছিল। একটা সময় প্রায়ই আমার বাড়িতে থাকত। আমি কাজ করতাম, আর ও মেঝেতে শুয়ে থেকে প্রশ্ন করত—‘কী গো, তোমার হলো?’”
এই কথাগুলির মধ্যেই ধরা পড়ে রাহুলের সহজ-সরল, কৌতূহলী এবং শেখার আগ্রহে ভরা মানসিকতা।
অদম্য চরিত্র, আপসহীন মানুষ
রাহুলের সবচেয়ে বড় গুণ হিসেবে উঠে এসেছে তাঁর আত্মসম্মানবোধ।
“কিছু পাওয়ার লোভে কখনও নিজের শিরদাঁড়া বাঁকায়নি ও,”—বলেছেন তিনি।
কাউকে আঘাত না করে নিজের মত প্রকাশ করা, নিজের জায়গায় অটল থাকা—এই বৈশিষ্ট্যই তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল।
পরিবারের মতো সম্পর্ক
ছোটবেলা থেকেই একে অপরের বাড়িতে যাতায়াত ছিল। সম্পর্কটা এতটাই গভীর ছিল যে তা শুধু কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, হয়ে উঠেছিল পারিবারিক।
তিনি আবেগভরা কণ্ঠে বলেন,
“কয়েকদিন আগেই ওর বাড়িতে গিয়ে একসঙ্গে খেয়ে এলাম… ভাবতেই পারছি না এ রকম দিন দেখতে হবে।”
শিল্পী হিসেবে বহুমুখী প্রতিভা
অভিনয়ের পাশাপাশি রাহুলের পডকাস্ট ‘সহজ কথা’ও বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। তাঁর কথা বলার ভঙ্গি, ভাবনার গভীরতা দর্শকদের মন ছুঁয়েছিল।
শব্দ হারিয়ে ফেলেছেন কাছের মানুষরা
শেষে তিনি বলেন,
“কী যে হয়ে গেল, সত্যিই আমি ভাষাহীন।”
এই একটি বাক্যই যেন বোঝায়—রাহুলের চলে যাওয়া শুধু একজন অভিনেতার মৃত্যু নয়, বরং এক প্রিয় মানুষকে হারানোর শূন্যতা।



