নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘শুদ্ধিকরণ’ অব্যাহত, দলবিরোধী কাজের অভিযোগে ৪ নেতাকে বহিষ্কার শাসকদলের। ভোটের আগে একের পর এক নেতা কর্মীর দলত্যাগ। তবে সব বাধা কাটিয়ে প্রবল শক্তিতে রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতা ধরে রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর ক্ষমতায় ফিরতেই দলবদলু নেতা কর্মীরা দলে ফিরতে চেয়েছেন। তবে ভোটের আগে দল ছেড়ে যাওয়া ‘গদ্দারদের’ সহজে দলে ফেরানো হবে না তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ ভোট পরবর্তী হিংসায় আহতদের দায়িত্ব সরকারের, স্পষ্ট নির্দেশিকা হাইকোর্টের।
একই সঙ্গে জানিয়েছেন দলবিরোধী কাজে যুক্ত থাকা কর্মীদের দল থেকে বের করা হবে। এই নিয়ে বিধানসভা ভোটের আগে পদক্ষেপ নেওয়া না হলেও এবার কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এককথায় যাকে বলে শুদ্ধিকরণ। এবার একসাথে চার নেতাকে বহিষ্কার করে ভোটের সময় বিজেপির হয়ে কাজ করা কর্মী নেতাদের স্পষ্ট বার্তা দিল তৃণমূল। ভোটের আগে বিজেপির সঙ্গে ‘সুসম্পর্ক’ রাখার অভিযোগে এবার ৬ বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হল দক্ষিন ২৪ পরগনা জেলার কাকদ্বীপ মহকুমার পাথরপ্রতিমা ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির ৪জন নির্বাচিত সদস্যকে। যে ৪জনের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিয়েছে তৃণমূল তাঁরা হলেন অপূর্ব দাস, খোকন দাস, স্বপন গিরি ও গীতা গিরি। এদের মধ্যে খোকন এই পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ছাড়াও ব্রজবল্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সঞ্চালক। আবার স্বপন দিগম্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্লক নর্থ সার্কেলের প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের সম্পাদক। আর গীতা এসএসকের সভানেত্রী।
পাথরপ্রতিমা ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির এই চার সদস্যের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ যে, এরা বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে পঞ্চায়েত সমিতি দখলের ছক কষছিল। এই নিয়ে ওই কেন্দ্রের বিধায়ক সমীর জানা জানিয়েছেন “দল বিরোধী কার্যকলাপের জন্য পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সহ চার নেতাকে দল থেকে ছয় বছরের জন্য বহিষ্কার করা হচ্ছে। এঁরা সকলেই নির্বাচনের সময় থেকেই বিরোধী দলের সঙ্গে ‘সুসম্পর্ক’ বজায় রেখে চলছিলেন। এমনকী, নির্বাচন আবহে দলের কোনও কাজে তাঁদের দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ এসেছে আমাদের কাছে। বুধবার রামগঙ্গার তৃণমূল কার্যালয়ে একটি বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্বাচনের সময় থেকেই ওদের ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। বারবার সতর্ক করা হয়েছিল দলের তরফে। এমনকী, বৈঠক ডেকেও কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। দলের সতর্কবাণী কানে নেননি ওরা। তাই দলও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
‘শুদ্ধিকরণ’ অব্যাহত, দলবিরোধী কাজের অভিযোগে ৪ নেতাকে বহিষ্কার শাসকদলের। এই নিয়ে বিজেপি জানিয়েছে এটি তৃণমূলের আভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত। তবে তৃণমূল নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা, এমন দলবিরোধী কাজ ভবিষ্যতেও বরদাস্ত করা হবে না।



