কুশল দাসগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ টাকা নিয়ে পাশ করানোর প্রতিশ্রুতি। চাকরি গেল অধ্যাপকের। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবরকম দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো অভিযুক্ত অধ্যাপক অমিতাভ কাঞ্জিলালকে। এমনকি তাকে নিট পরীক্ষার অবর্জাভার থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় তার বিরুদ্ধে মাটিগাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।বিক্ষোভে সামিল হয়েছে তৃণমুল ছাত্র পরিষদ সহ বিজেপি যুব মোর্চা।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বকর্মা পুজোর প্রাক্কালে রাজ্য সরকারের সাহায্য প্রার্থনা অসহায় মৃৎ শিল্পীদের।


শনিবার সারাদিন অমিতাভ কাঞ্জিলালই ছিলেন আলোচনার শিরোনামে। কলেজে টাকার বিনিময়ে ছাত্রী ভর্তির অডিও ক্লিপ ভাইরাল হতেই বিশ্ববিদ্যালয় নড়েচড়ে বসে। তারা সমস্ত তথ্য যোগাড় করে নিশ্চিত হন অডিও ক্লিপে যে অধ্যাপকের গলা শোনা গিয়েছে তিনি শিলিগুড়ি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক অমিতাভ কাঞ্জিলাল। ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে সেই ছাত্রী লিখিত অভিযোগ করেন শিলিগুড়ি কলেজে। সেই অভিযোগ পত্র উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। এরপর শনিবার অধ্যাপকের বিরুদ্ধে মাটিগাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। শুধু তাই নয় তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।
১০ হাজার টাকা নিয়ে এক ছাত্রীকে পরীক্ষায় পাশ করানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত তিনি। ওই ছাত্রী এবং অভিযুক্ত অধ্যাপকের একটি অডিও ক্লিপ ঘিরে প্রাথমিকভাবে এই অভিযোগ ওঠে। এরপর শুক্রবার বিকেলে শিলিগুড়ি কলেজের ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ই-মেইল মারফৎ অভিযোগ জানান ওই ছাত্রী। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে জানানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন শিলিগুড়ি কলেজের অধ্যক্ষ সুজিত ঘোষ।
টাকা নিয়ে পাশ করানোর প্রতিশ্রুতি। অধ্যাপকের টাকা নেওয়া নিয়ে আজও উত্তেজনা রয়েছে শিলিগুড়িতে। আজ শিলিগুড়ির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়। ওই অধ্যাপকের সামাজিক বহিষ্কারও চান তারা। গতকাল বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যম থেকে ওই অধ্যাপকের বাড়ি যাওয়া হয়। কিন্তুু তার বাড়ির পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে অধ্যাপকের কথা বলতে দেওয়া হয় নি।


এদিন ওই ছাত্রী আবার তোপ দাগেন ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে, তিনি জানান বার বার ওই অধ্যাপক তার উপর চাপ সৃষ্টি করে গেছেন তিনি এখনো বুঝতে পারছেন না,কেন তার কাছে এতগুলি টাকা চাওয়া হল। তিনি নিজেও ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবী করেন।এ দিকে ওই নামকরা অধ্যাপকের বিরুদ্ধে এতবড় অভিযোগ আনায় অবাক শিলিগুড়ির মানুষ। তারা বুঝতেই পারছেন না কি করে ওই অধ্যাপক এই কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লেন।







