‘ওভাররেটেড’ মন্তব্যের পর এখনও নীরব, বাঁকিপুরে পিকের ঐতিহাসিক জয়ে শুভেচ্ছা নেই মমতা-অভিষেকের

বাঁকিপুর উপনির্বাচনে জন সুরাজের হয়ে প্রশান্ত কিশোরের জয়ের পরও তৃণমূলের তরফে কোনও শুভেচ্ছা বা প্রতিক্রিয়া আসেনি। এই নীরবতা ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা ব্যাখ্যা ও জল্পনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) নির্বাচনী কৌশলের প্রধান মুখ ছিলেন প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। এবার বিহারের (Bihar) বাঁকিপুর (Bankipur) উপনির্বাচনে নিজের দল জন সুরাজ (Jan Suraaj)-এর প্রার্থী হিসেবে জিতে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এই সাফল্যের পরেও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে কোনও শুভেচ্ছা বা প্রতিক্রিয়া না আসায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

ভোটকৌশলী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার পর এবার সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে নেমে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের (Nitin Naveen) ছেড়ে যাওয়া বাঁকিপুর আসনে তাঁর জয়কে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে বিজেপির বিরুদ্ধে এই ফলাফলকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন সমীকরণের আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাংলার রাজনীতিতে প্রশান্ত কিশোরের পরিচিতি মূলত তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশলবিদ হিসেবেই। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁর সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC) তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, কঠিন পরিস্থিতিতেও দলের সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে তাঁর কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও আইপ্যাক তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তখন আর সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না প্রশান্ত কিশোর। এরই মধ্যে তিনি নিজের রাজনৈতিক দল গঠন করে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। বাঁকিপুরের জয়কে তাই অনেকেই তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্যের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।

প্রশান্ত কিশোর অতীতে একাধিকবার প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি বলেছিলেন, আন্দোলনের রাজনীতি থেকেই মমতার উত্থান এবং তাঁর ভূমিকা কেবল কিছু কৌশলগত পরামর্শ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে অন্যদিকে, প্রায় এক বছর আগে তৃণমূলের তৎকালীন সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) প্রশান্ত কিশোরকে ‘ওভাররেটেড’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। সেই পুরনো মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই এখন নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে তৃণমূলের এই নীরবতার ব্যাখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে একাধিক মত রয়েছে। একাংশের মতে, আইপ্যাক বা প্রশান্ত কিশোরকে ঘিরে পুরনো বিতর্ক নতুন করে সামনে আনতে চাইছে না কালীঘাট। কারণ সেই প্রসঙ্গ টানলে অতীতের নানা রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কও ফের আলোচনায় চলে আসতে পারে।

আবার অন্য একটি রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও উঠে আসছে। কিছু বিশ্লেষকের দাবি, বাঁকিপুরের ফলাফল শুধু বিজেপির ধাক্কা নয়, বিরোধী INDIA জোটের অন্দরের সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও বিজেপি প্রশান্ত কিশোরের জয়ে কোনওভাবে ভূমিকা রেখেছে— এমন দাবির পক্ষে এই প্রতিবেদনে কোনও স্বাধীন প্রমাণ নেই; এটি রাজনৈতিক মহলের একাংশের জল্পনা মাত্র। সেই কারণেই তৃণমূল নেতৃত্ব প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলেও অনেকে মনে করছেন।

এখনও পর্যন্ত প্রশান্ত কিশোরের জয় নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি বা শুভেচ্ছাবার্তা সামনে আসেনি। এই নীরবতা নিছক রাজনৈতিক সৌজন্যের অভাব, নাকি সুপরিকল্পিত কৌশল— তা নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর