‘বিজেপির প্রাণভোমরা’ জ্ঞানেশ কুমার ফ্রিজ হয়ে যাবেন! সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তোপ অভিষেকের

বিলবোর্ড মামলায় কলকাতা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিজেপি ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আক্রমণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দিল্লিতে সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারি নিয়েও প্রশ্ন তুলে গ্রেফতারির দাবি তুললেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিলবোর্ড মামলায় কলকাতা পুলিশের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার বিজেপি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শেক্সপিয়র সরণি থানায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা কাটিয়ে বেরিয়ে তাঁর হুঁশিয়ারি, তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করতে গেলে উল্টে ফ্রিজ় হয়ে যেতে পারেন জ্ঞানেশই। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের গ্রেফতারির দাবিও তুলেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ কলকাতার শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজির হন অভিষেক। বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। বিলবোর্ড বিতর্কে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি এ দিন তাঁর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল নির্বাচন কমিশন, বিজেপি এবং দিল্লিতে বিরোধীদের আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত।

জ্ঞানেশ কুমারকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার চেষ্টা হলে তার পরিণতি অন্য রকম হতে পারে। তাঁর কথায়, জ্ঞানেশ কুমারই বিজেপির ‘প্রাণভোমরা’। তৃণমূলের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে শুধু পদত্যাগের দাবি নয়, তাঁকে গ্রেফতারও করতে হবে। যদিও অভিষেকের এই অভিযোগ ও দাবি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য; এ বিষয়ে কোনও বিচারবিভাগীয় সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়নি।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে বিরোধীদের প্রতিবাদ প্রসঙ্গেও সরব হন তৃণমূল সাংসদ। ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) বিরোধী জোটের আন্দোলনের পাশাপাশি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিবাদ কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। মঙ্গলবার দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রবেশের ঘটনায় সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে বলে খবর।

দুই নেতার গ্রেফতারির প্রতিবাদে আগেই সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছিলেন অভিষেক। বুধবার কলকাতায় ফের সেই প্রসঙ্গ তুলে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দেশের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে প্রতিবাদ করলেই কি কাউকে গ্রেফতার করা হবে? ব্রিটিশ আমলের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে বিজেপি শাসনকে আক্রমণ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের আন্দোলন দমনে পুলিশের তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমার বিপাকে পড়লে বিজেপির নেতারাও সমস্যায় পড়বেন। সেই কারণেই তাঁকে রক্ষা করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন অভিষেক।

এ দিনের বক্তব্যে মনোজ অগ্রবাল এবং সুব্রত গুপ্তের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের সময় মনোজ অগ্রবাল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দায়িত্বে ছিলেন। সুব্রত গুপ্ত ছিলেন নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক। তাঁদের ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক প্রশ্ন তোলেন অভিষেক।

তৃণমূলকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে যে অভিযোগ শাসকদল করে আসছে, এ দিনও সেই সুর শোনা যায় অভিষেকের বক্তব্যে। তাঁর প্রশ্ন, দলের নাম, নির্বাচনী প্রতীক ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে পদক্ষেপ, পার্টি অফিসে ভাঙচুর এবং নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের পরেও বিজেপি কেন তৃণমূলকে নিয়ে উদ্বিগ্ন? এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নাম করেও আক্রমণ করেন তিনি।

বিলবোর্ড মামলায় অভিষেকের হাজিরার নেপথ্যে রয়েছে ২৭ অগস্টের ঘটনা। কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থাকা একটি বিলবোর্ড সরাতে গিয়ে কলকাতা পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। পুরসভার অভিযোগ, বিলবোর্ড সরানোর সময় কর্মী ও পুলিশকর্মীদের বাধা দেওয়া এবং তাঁদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিষেকের নাম রয়েছে তার মধ্যে দু’টিতে। অভিযোগের তদন্তেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়।

এর আগে সোমবার থানায় হাজিরার নির্দেশ পেয়েও অভিষেক উপস্থিত হননি। সূত্রের খবর, তিনি ইমেল করে ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছিলেন। পরে পুলিশ তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে নতুন নোটিস দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার থানায় হাজির হন তিনি। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে কী কী তথ্য উঠে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ্যে আসেনি।

এ দিকে, সমাজমাধ্যমে আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের নিয়ে পোস্ট সংক্রান্ত বিতর্কে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকেও বুধবার তলব করেছিল ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সাইবার ক্রাইম থানা। তবে তিনি হাজিরা দেননি। সূত্রের খবর, দিল্লিতে কাজের ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পুলিশকে ইমেল করেছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। এই নিয়ে তাঁকে ষষ্ঠ বার তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisementspot_img

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর