মমতার নির্দেশে আলু রফতানি বন্ধ! তবুও কমবে না আলুর দাম, কেন?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, আলু রফতানি করার কারণেই বাজারে দাম বেড়েছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে আলুর দাম বৃদ্ধি নিয়ে তোলপাড় চলছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাজারের নিয়ন্ত্রণের জন্য আলু রফতানি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে, এই নির্দেশে চাষি এবং ব্যবসায়ীরা বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজ্যের আলু চাষিরা এবং কারবারিদের একাংশ বলছেন, রফতানি বন্ধ হলে আলুর দাম কমলেও মজুত আলু নষ্ট হবে এবং চাষিরা পরবর্তী মৌসুমে নতুন বীজ কিনতে হিমশিম খাবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, আলু রফতানি করার কারণেই বাজারে দাম বেড়েছে। তবে আলু ব্যবসায়ীদের দাবি, রফতানির সঙ্গে দাম বৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই। বরং সঠিক সময়ে আলু মজুত না খালি করার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

Shamim Ahamed Ads

বর্তমানে রাজ্যের বাজারে জ্যোতি আলুর দাম ৩০-৩৫ টাকা প্রতি কেজি। যদিও গত বছর এই সময় আলুর দাম ছিল মাত্র ২২ টাকা প্রতি কেজি। ব্যবসায়ীরা জানান, ৫০০টি হিমঘরে সংরক্ষিত ১২ কোটি ৫৫ লাখ বস্তা আলুর মধ্যে এখনও প্রায় ১.৬৫ কোটি বস্তা মজুত রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে আলু প্রধানত বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং মধ্যপ্রদেশে রফতানি হয়। রফতানি বন্ধ হলে এই রাজ্যের চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পূর্ব বর্ধমান আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি উত্তম পাল জানান, মজুত আলু বিক্রি না করতে পারলে নতুন বীজ কেনা সম্ভব হবে না, যার প্রভাব পড়বে আগামী বছরের উৎপাদনে।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যের সীমানাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু আলুবোঝাই ট্রাক আটকানোর ঘটনা ঘটেছে। যদিও সরকার এখনো আলু রফতানির উপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেয়নি, তবে পরিস্থিতি অন্য কথা বলছে।

আলু ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, রফতানি বন্ধ থাকলে রাজ্যের বাজারে আলুর দাম কমে গেলেও মজুত আলু নষ্ট হবে। এর ফলে একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন চাষি, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের লোকসান হবে।রাজ্যের চাষি ও ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, আলু রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক। এতে চাষিরা তাদের মজুত আলু বিক্রি করে পরবর্তী মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

আলুর রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত শুধু বাজার নিয়ন্ত্রণে নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ না নিলে চাষি ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে, যা আগামী দিনে এই খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত