মন্ত্রিসভায় সিলমোহরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কার্যকর সিদ্ধান্ত। টানা পাঁচ বছর সন্তোষজনক পরিষেবা দিলেই ডব্লিউবিসিএস (এগ্জ়িকিউটিভ) আধিকারিকদের এসডিএম বা এসডিও পদে পোস্টিংয়ের জন্য বিবেচনা করা হবে—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ঘোষণার পর নবান্ন থেকে জারি হল সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি। তবে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, পাঁচ বছর পূর্ণ হলেই স্বয়ংক্রিয় পদোন্নতি নয়; রাজ্যের প্রয়োজন ও শূন্যপদের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
মঙ্গলবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবে অনুমোদন মেলে। পরদিন কর্মিবিনিয়োগ ও প্রশাসনিক দফতরের ডব্লিউবিসিএস সেল থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়, ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস (এগ্জ়িকিউটিভ) অফিসার্স (পে) রুলস, ২০২১–এ সংশোধন আনা হয়েছে। সংবিধানের ৩০৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাজ্যপাল এই পরিবর্তনে সম্মতি দিয়েছেন বলেও উল্লেখ রয়েছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনও ডব্লিউবিসিএস (এগ্জ়িকিউটিভ) আধিকারিক টানা পাঁচ বছর সন্তোষজনকভাবে দায়িত্ব পালন করলে তাঁকে সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) বা সাব-ডিভিশনাল অফিসার (এসডিও) পদে পোস্টিংয়ের জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই পাঁচ বছরের হিসাবের মধ্যে প্রবেশন পিরিয়ড এবং ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) বা সমমানের পদে কর্মরত থাকার সময়কালও ধরা হবে।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, এটি কোনও স্বয়ংক্রিয় প্রমোশন স্কিম নয়। সংশ্লিষ্ট শূন্যপদ, প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং সরকারের বিবেচনার ভিত্তিতেই পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ, যোগ্যতা অর্জন করলেও চূড়ান্ত নিয়োগ নির্ভর করবে পরিস্থিতির উপর।
রাজ্যপালের আদেশক্রমে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই সংশোধনের ফলে তুলনামূলকভাবে তরুণ এবং কর্মদক্ষ ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের দ্রুত উচ্চতর দায়িত্বে আনার সুযোগ তৈরি হল। দীর্ঘদিন ধরে যে দাবি উঠছিল—ব্লক স্তরে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা অফিসারদের দ্রুত সাব-ডিভিশন স্তরে উন্নীত করা—তা আংশিকভাবে বাস্তবায়িত হল বলেই মত অনেকের।
অন্যদিকে, ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের একাংশের দাবি, এই পরিবর্তন তাঁদের বহুদিনের আন্দোলনের ফল। প্রশাসনিক স্তরে পদোন্নতির গতি মন্থর হওয়ায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। ভোটের আগে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী মহলের মতে, নির্দিষ্ট এক শ্রেণির প্রশাসনিক আধিকারিকদের মনোভাব প্রভাবিত করতেই এই পদক্ষেপ।
সব মিলিয়ে, নতুন নিয়মে পাঁচ বছর পূর্ণ করলেই এসডিএম বা এসডিও হওয়ার পথ খুলছে—তবে শেষ কথা বলবে সরকারের প্রয়োজন ও শূন্যপদের বাস্তবতা। প্রশাসনিক কাঠামোয় এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা সময়ই বলবে।






