রাজ্য সরকারি চাকরিতে পদোন্নতির দীর্ঘসূত্রিতা ভাঙতে বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের ক্ষেত্রে বিডিও পদে মাত্র তিন বছর দায়িত্ব পালন করলেই এসডিও পদে উন্নীত হওয়ার সুযোগ মিলবে—মঙ্গলবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমনই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়েছে। প্রশাসনিক গতি বাড়ানো এবং কর্মস্পৃহা বাড়াতেই এই ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ নীতি, জানাল রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্পষ্ট করা হয়েছে, এতদিন বিডিও থেকে এসডিও হতে সাত থেকে আট বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হত অনেক আধিকারিককে। সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতেই এবার পদোন্নতির কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনা হল।


নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের পর প্রথম দু’বছর শিক্ষানবিশ বা প্রবেশন পিরিয়ড সম্পূর্ণ করতে হবে। তার পর বিডিও হিসেবে তিন বছর দায়িত্ব পালন করলেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিক এসডিও পদের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। প্রশাসনের শীর্ষ মহলের দাবি, এতে তরুণ আধিকারিকরা আরও উদ্দীপিত হবেন এবং ব্লক থেকে মহকুমা স্তর পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়বে।
শুধু ডব্লিউবিসিএস নয়, রাজ্যের আরও ৯টি ‘স্টেট কনস্টিটিউটেড সার্ভিস’-এর ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিতে স্থবিরতা বা ‘স্ট্যাগনেশন’-এর অভিযোগ ছিল বিভিন্ন দপ্তরে। সেই সমস্যা কাটাতে বিভিন্ন পে-লেভেলে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত পদ সৃষ্টির প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিরিক্ত পদ সৃষ্টির ফলে বহু আধিকারিক, যারা বছরের পর বছর একই পদে আটকে ছিলেন, তাঁরা এবার পদোন্নতির সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে পদমর্যাদা ও বেতনের অসামঞ্জস্যও কিছুটা কমবে।


এদিনের বৈঠকে শিল্প ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক শিল্প সংস্থাকে জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রশাসনিক সংস্কার ও শিল্প সম্প্রসারণ—দুই ক্ষেত্রেই গতি আনতে একযোগে পদক্ষেপ নেওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সব মিলিয়ে, পুজোর মরসুমের পর রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের জন্য এই ঘোষণা বড় বার্তা বহন করছে। এখন নজর, নতুন নীতি বাস্তবায়নে প্রশাসনের গতি কতটা বাড়ে।







