জন্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত পশ্চিমবঙ্গে। বিধাননগরে সারভাইক্যাল ক্যানসার টিকাকরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানালেন। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত কার্যকর পদক্ষেপের আবেদনও করেন তিনি।
শনিবার বিধাননগর হাসপাতালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, রাজ্যের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে পরিবার পরিকল্পনাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বক্তব্যের সময় তিনি ১৯৯০ সালের বহুল আলোচিত বানতলা ঘটনার প্রসঙ্গও তুলে আনেন। সেই সময় টিকাকরণ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর নৃশংস হামলার ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সামাজিক সংস্কারের পথে এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে।
শমীকের দাবি, অতীতে বিভিন্ন কুসংস্কার ও ধর্মীয় প্রচারের কারণে অনেক স্বাস্থ্য প্রকল্পের বাস্তবায়নে বাধা তৈরি হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত বলে মত তাঁর।
বিজেপি রাজ্য সভাপতির বক্তব্য, একটি সুস্থ ও উন্নয়নমুখী সমাজ গড়ে তুলতে পরিবার পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে বিশেষ সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে এই বিষয়ে বৃহত্তর প্রচারাভিযান চালানো যেতে পারে বলেও তিনি প্রস্তাব দেন।
তিনি আরও বলেন, সীমিত সম্পদের উপর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিশেষ করে মহিলাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং আর্থিক স্বনির্ভরতার সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নীতিগত আলোচনা শুরু হওয়া প্রয়োজন। তাঁর আশা, সরকার এই বিষয়ে ইতিবাচক উদ্যোগ নেবে।
একই মঞ্চে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও বার্তা দেন বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা সামাজিক গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মানুষের জন্য সমানভাবে কাজ করবে।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে তিনি জানান, স্বাস্থ্য প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমিয়ে স্বচ্ছ ও পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
এদিনের অনুষ্ঠানে রাজ্যজুড়ে সারভাইক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধে টিকাকরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। রাজ্যের ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সি কিশোরীদের জন্য বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে ২৩৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে টিকাকরণ শুরু হয়েছে। মোট ৭ লক্ষেরও বেশি কিশোরীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য উদ্যোগের মঞ্চ থেকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। আগামী দিনে এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।



