পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভে চাপে শাহবাজ, ‘আলোচনায় বসে সমস্যা মেটানোর’ বার্তা

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ ও প্রাণহানির ঘটনায় চাপ বাড়ছে শাহবাজ সরকারের উপর। এবার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যা সমাধানের বার্তা দিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) চলমান অশান্তি ও নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন নিয়ে চাপের মুখে এবার সুর কিছুটা নরম করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif)। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধানের পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কোনও সমস্যা থাকলে তা আলোচনার টেবিলেই মেটানো সম্ভব। সাম্প্রতিক প্রাণহানি ও বিক্ষোভ নিয়ে চাপ বাড়ার মধ্যেই ইসলামাবাদের এই বার্তাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ক্ষোভ জমছিল। অর্থনৈতিক সমস্যা, সাধারণ মানুষের একাধিক দাবি, সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধকে কেন্দ্র করে নাগরিক সমাজের একাংশের আন্দোলন ক্রমশ জোরদার হয়েছে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও সামনে আসে।

এই পরিস্থিতিতেই শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যাঁরা শান্তিপূর্ণ ভাবে নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, তাঁদের সঙ্গে ভিন্ন ভাবে কথা বলতে চায় সরকার। একই সঙ্গে বিশৃঙ্খলা বা নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা করা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না বলেও সতর্ক করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী।

শাহবাজের বক্তব্যে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন টানার চেষ্টা রয়েছে। একদিকে শান্তিপূর্ণ ভাবে নিজেদের সমস্যার কথা জানানো মানুষকে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি, অন্যদিকে যাঁদের বিরুদ্ধে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন। ফলে ইসলামাবাদ একই সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রাখছে এবং আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কড়া অবস্থানও বজায় রাখছে।

এর আগে পাক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহও (Rana Sanaullah) বিক্ষোভকারীদের সম্পর্কে তুলনামূলক নরম মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ৯৯ শতাংশই দেশপ্রেমিক এবং তাঁদের জঙ্গি হিসেবে দেখা উচিত নয়। সরকারের এই অবস্থান বদলকে চলতি পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

কারণ, কয়েক দিন আগেও পাকিস্তান সরকারের বক্তব্য ছিল অনেক বেশি কড়া। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ (Khawaja Asif) বিক্ষোভকারীদের একাংশকে ‘শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাও নাকচ করেছিলেন বলে রিপোর্টে উঠে এসেছিল। সেই অবস্থান থেকে এখন প্রধানমন্ত্রী নিজে আলোচনার বার্তা দেওয়ায় সরকারের কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও ওই অঞ্চলে বড় আকারের আন্দোলন হয়েছিল এবং বিভিন্ন দাবিতে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছিল। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতেও আলোচনার মাধ্যমে অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রেক্ষিতে এর গুরুত্ব অনেকটাই বেড়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকারের উপর একাধিক দিক থেকে চাপ তৈরি হয়েছে। একদিকে বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ, অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা এবং প্রাণহানির ঘটনা—সব মিলিয়ে ইসলামাবাদকে রাজনৈতিক ভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। তার উপর সামনে নির্বাচনী প্রক্রিয়াও রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে উঠে এসেছে।

ফলে শাহবাজ শরিফের ‘আলোচনায় বসে সমস্যা সমাধান’-এর বার্তাকে শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, পরিস্থিতি শান্ত করা এবং আন্দোলনকে আরও বড় আকার নেওয়া থেকে আটকানোর জন্য ইসলামাবাদ আপাতত সমঝোতার পথ খুঁজছে। এখন প্রশ্ন, এই আলোচনার প্রস্তাব বিক্ষোভকারীরা কী ভাবে গ্রহণ করেন এবং বাস্তবে তাঁদের দাবিগুলির কতটা সমাধান হয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন