নজরবন্দি ব্যুরোঃ তৃণমূলে এখন যোগদানের হিড়িক লেগেই রয়েছে। সম্প্রতি মমতার সফরে যোগদান করেছেন কীর্তি আজাদ, পবন বর্মা, অশোক তানওয়াররা যোগদান করেছেন। ১২ বিধায়ক নিয়ে যোগদান করেছেন মুকুল সাংমা। বাংলার পর ভিন রাজ্যে সংগঠন বাড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য দিল্লির মসনদের রাস্তা সহজ করছেন নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোর৷ একেবারে ২০১৪ স্ট্র্যাটেজি। ঠিক যেভাবে নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমতায় এনেছিলেন পিকে।
আরও পড়ুনঃ একই ইস্যুতে ভিন্ন সিদ্ধান্ত, অধিবেশন শুরুর আগে দুরত্ব বাড়ছে কংগ্রেস-তৃণমূলের


বাংলায় বিজেপির রথ আটকে দিয়ে তৃণমূলের লক্ষ্য জাতীয় রাজনীতির মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধান বিরোধী দল হিসাবে তুলে ধরা। তাই এখন থেকেই সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট। বাংলার বাইরে অন্যান্য রাজ্যে ক্ষমতায় না থাকলেও বিরোধী শক্তি হিসাবে তৃণমূলের প্রসার ঘটাতে চাইছেন প্রশান্ত। এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলা অনেক সহজ হবে। ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা, গোয়ায় সেই কাজ শুরু হয়ে গেছে।
নজরে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা। উত্তরপ্রদেশের দুই কংগ্রেস নেতাদের আগেই দলে যোগদান করিয়েছেন মমতা। অশোক তানওয়ারের মতো তুখর নেতাকে সামনে রেখে হরিয়ানার ছক কষতে শুরু করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। শোনা যাচ্ছে, কর্ণাটকেও ঘাসফুলের বিস্তার ঘটাতে একপ্রস্থ বৈঠক সেরে ফেলেছেন পিকে। বৈঠক করেছেন একাধিক হেভিওয়েট নেতাদের সঙ্গেও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালে বিপুল ম্যানডেট নিয়ে মোদিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার সময় একই স্ট্র্যাটেজি ছিল প্রশান্ত কিশোরের। পরে প্রশান্ত কিশোর বিজেপি ছাড়লেও এই স্ট্র্যাটেজি নকল করে বিজেপি। কিন্তু দলবদলীকরণে ওস্তাদ পিকে। তাঁর লক্ষ্য কংগ্রেস অথবা বিজেপি থেকে নেতাদের তৃণমূলে যোগ দেওয়ানো। এই কাজ বিজেপির মধ্যে কঠিন। সুব্রক্ষণ্যম স্বামী অথবা যশবন্ত সিনহা ছাড়া আর কাউকেই আনা সম্ভব হয়নি। কিন্তু কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্ব পিকের জন্য এই কাজটা আরও সোজা করেছে।


ইতিমধ্যেই মুকুল সাংমাদের মতো নেতাদের যোগদান করিয়ে মেঘালয়ের বিরোধী বেঞ্চে সরাসরি পৌঁছে গেছে তৃণমূল। গোয়ায় নির্বাচনে প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন লুই লজিনহো ফেলেরিওরা। ত্রিপুরায় পুরভোটের মাধ্যমে লিটমাস টেস্ট শুরু হয়েছে সুবল ভৌমিকদের৷ এর পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টির হয়ে প্রচারে যেতে পারেন মমতা। ডিসেম্বরের শুরুতে মহারাষ্ট্র সফরে যাবেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেখানেও বড়সড় বদল হলে চমকানোর কিছুই থাকবে না৷
একেবারে ২০১৪ স্ট্র্যাটেজি, কংগ্রেস ভাঙাচ্ছেন প্রশান্ত কিশোর

বরং শোনা যাচ্ছে বিজেপি এবং কংগ্রেস থেকে কয়েকজন বড় মাপের নেতাদের যোগদানের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী নেত্রী হিসাবে দেখতে চান লালু যাদব, হেমন্ত সোরেন এবং কেজরিওয়ালরা। সব মিলিয়ে বিরোধী জোটের সমীকরণ মিলে গেলে আগামী দিনে দিল্লির তখত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেটা প্রশান্ত কিশোরের একেবারে ২০১৪ স্ট্র্যাটেজি ধরেই।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



