নজরবন্দি ব্যুরোঃ অমরেন্দ্রর প্রধান উপদেষ্টার পদ ছাড়লেন পিকে, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে সেকথা জানিয়েছেন তিনি নিজেই। তবে বরাবরের মতোই পিকের সিদ্ধান্তে তৈরি হয়েছে জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে দু’ধরনের। এক পক্ষ মনে করছে তাহলে কী এবার কংগ্রেসের সঙ্গে যোগ হওয়ার জল্পনার অবসান ঘটালেন কিশোর?
আরও পড়ুনঃ খুনের চেষ্টা অভিষেককে! ডিজিপিকে চিঠি দিলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মন্ত্রী
আবার এক পক্ষ বলছে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টার পদ ছেড়ে আদপে সরাসরি কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার দরজা খুলে রাখলেন তিনি। যদিও এখনো এসব জল্পনা, প্রশ্নের উত্তর দেননি ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর। মাসখানেক আগেই বাংলায় মমতা সরকারের হয়ে ভোট কৌশল রচনায় সফল হয়েছেন তিনি এবং তাঁর টিম আইপ্যাক।
তাঁর ভবিষ্যৎ বানী সঠিক করে ২০০ এর বেশি আসন জিতেছে তৃণমূল। তবে তার পরেই পিকে জানিয়েছিলেন আর ভোট কুশলীর কাজ করবেন না তিনি। ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সরাসরি রাজনীতিতে আসার। বাংলার বিধানসভার নির্বাচনের মাঝেই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর। গত মার্চে ট্যুইট করে একথা জনিয়েছিলেন খোদ অমরেন্দ্র সিং।

লিখেছিলেন ‘পঞ্জাবের মানুষের উন্নতির জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’ তবে তার মাস পাঁচেকের মধ্যে, তার চেয়েও বেশি উল্লেখযোগ্য পাঞ্জাব ভোটের মুখে ক্যাপ্টেনের হাত ছাড়লেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে নিজের পদ থেকে অব্যাহতির কথা জানিয়ে পিকে লিখেছেন, ‘আপাতত সাময়িক বিরতি নিচ্ছি। বিষয়টি আপনি জানেন। তাই আপনার প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। আপনার কাছ থেকে অব্যাহতি চাইছি। এই সুযোগ দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’
৫ মাসের মাথায় অমরেন্দ্রর প্রধান উপদেষ্টার পদ ছাড়লেন পিকে।

এর মাঝেই জল্পনা শুরু হয়েছে তবে কি এবার সরাসরি কংগ্রেসের রাজনীতির ঘরে ঢুকছেন তিনি। এই জল্পনা নতুন নয়, দিন কয়েক আগেই প্রশান্ত কিশোর বৈঠক করেছেন রাহুল-প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে। সূত্রের খবর পিকে কে দলে নিতে একপ্রকার মনস্থির করে ফেলেছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি।

তবে সমস্যা রয়েছে দলের ভেতরে। দলের সকল নেতা-মন্ত্রী পিকে কে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় সহমত হতে পারেননি। কারো কারো মতে পিকে ওভাররেটেড, কেউ কেউ মনে করছেন পিকে একছত্র কাজে অভ্যস্থ, তিনি দলে এলে কারো পরাপমর্শ নেবেন না, উলটে ভাঙন ধরবে কংগ্রেসের ঘরে। তবে সেসব চর্চা-জল্পনা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে পিকের ইস্তফা। এখনো দু’পক্ষ বলছে হয় কংগ্রেসের সঙ্গ থেকে একেবারে বেরিয়ে গেলেন মমতার ভোট কুশলী, নয়তো কংগ্রেসের ঘরে পাকাপাকি ভাবে ঢুকবেন এবার।



