নজরবন্দি ব্যুরো: রাজ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রাজীব সিনহার নিয়োগের পর থেকেই বিতর্ক বেড়েছে। দায়িত্ব হাতে পেয়েই বহু প্রতীক্ষিত পঞ্চায়েত নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছেন। মনোনয়ন পর্বে রাজ্যের একাধিক জায়গায় অশান্তির ছবি ফুটে উঠেছে। এনিয়ে কমিশনারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যপাল। এবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হল। চলতি সপ্তাহেই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: কয়লা পাচারকাণ্ডে বারংবার তলব এড়িয়েছেন মলয়! ইডির ডাকে আজ কি সাড়া দেবেন আইনমন্ত্রী?


রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পদে রাজীব সিনহার নিয়োগের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করেন আইনজীবী নবেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী শুক্রবার এই মামলার শুনানি হতে পারে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পদে কাকে নিয়োগ করা হবে এনিয়ে অনেক জলঘোলা হয়েছে। নবান্নের তরফে প্রথমে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব রাজীবের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু রাজি হয়নি রাজভবন। এরপর আরও দুটি নাম পাঠানো হলে শেষ পর্যন্ত রাজীব সিনহার নামেই সিলমোহর দেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। গত ৭ জুন তাঁকে নিয়োগ করা হয়।

রাজীব সিনহার নিয়োগ নিয়ে প্রথম থেকেই সরব ছিল বিরোধীরা। পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পর্বে একের পর এক অশান্তির ঘটনা সামনে আসে। এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন খোদ রাজ্যপাল। তিনি দাবি করেছিলেন, কমিশনার বাংলার মানুষকে হতাশ করেছেন। গত বুধবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহার জয়েনিং রিপোর্ট ফেরত পাঠান রাজ্যপাল। এরপরই রাজীব সিনহার বৈধতা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে কিছু আলচনার জন্য কমিশনারকে ডেকে পাঠানো হলেও তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে রাজভবনে যাননি। এমনই খবর সামনে এসেছিল। রবিবার ফের রাজভবনে তলব করা হয় হয় রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে। গতকাল ২ ঘণ্টার বৈঠক হয় দুজনের। জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনারকে নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্যপাল।



উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি গোটা রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর নির্দেশ দেন। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য নির্বাচন কমিশন। যদিও কলকাতা হাইকোর্টের রায়কেই পুনর্বহাল করে শীর্ষ আদালত। কমিশনের তরফে ২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চাওয়া হলে প্রশ্ন তুলে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয় বিরোধীরা। এই মামলায় হাইকোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় কমিশনারকে। প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম রাজীব সিনহাকে বলেন, “চাপ নিতে না পারলে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।” এরপর আদালতের নির্দেশ মেনে কেন্দ্রের কাছে ৮০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে চিঠি পাঠান রাজীব সিনহা।
রাজীব সিনহার নিয়োগের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



