নজরবন্দি ব্যুরো: তালিবানদের ভয়ে যাঁরা দেশ ছাড়তে চান তাঁদের যেতে দেওয়া হোক, রবিবার থেকে এই আবেদনই জানাচ্ছে আমেরিকা সহ বিশ্বের আরো ৬৫টি দেশ। রবিবার আমেরিকার তরফে ৬৫টি দেশের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে আফগানবাসীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানায় তালিবানদের কাছে।
আরও পড়ুনঃ সনিয়াকে চিঠি দিয়ে কংগ্রেস ছাড়লেন সুস্মিতা, প্রাক্তন সাংসদের তৃণমূল যোগের জল্পনা তুঙ্গে
মার্কিন স্টেট সেক্রেটারি অ্যান্টনি ব্লিনকিন সেই যৌথ বিবৃতি টুইটারে শেয়ার করেন এবং লেখেন, “আমেরিকাও আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলিত হয়ে আবেদন জানাচ্ছে যে আফগান নাগরিক ও অন্যান্য দেশের নাগরিকরা, যারা দেশ ছেড়ে চলে যেতে চাইছেন, তাদের যেন বিনা বাধায় যেতে দেওয়া হয়। যারা আফগানিস্তানের ক্ষমতায় রয়েছেন, তাদের উপরই মানব সুরক্ষালর দায়িত্ব রয়েছে।”
এই যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বর্তমান পরিস্থিতি দেখে আমরা সকলেই আফগানিস্তানের নাগরিক ও আফগানিস্তানে বসবাসকারী অন্যান্য দেশের নাগরিকদের সুরক্ষার দাবি জানাচ্ছি। যারা দেশ ছাড়ছেন, তাদের যেন কোনওরূপ শাস্তির মুখে যেন না পড়তে হয় এবং বিনা বাধায় তাদের যেতে দেওয়া হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।” এই পরিস্থিতিতে যাতে বিমানবন্দর, রাস্তা ও সীমান্তগুলি যাতে খুলে দেওয়া হয়, তার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, চিলি, কলোম্বিয়া, জাপান, ইটালি, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড, কোস্টা রিকা, ক্রোয়েশিয়া, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, ব্রিটেন, ইউক্রেন, ইয়েমেন, উগান্ডা সহ মোট ৬৫টি দেশ আফগানিস্তানের বাসিন্দাদের সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন। তালিবানরা দেশের সবকটি সীমান্ত দখল নেওয়ায় সড়কপথ কার্যত ফাঁকা। তাই আফগানবাসীর কাছে একমাত্র ভরসা কাবুল বিমানবন্দর।
তালিবানদের ভয়ে যারা দেশ ছাড়তে চান তাঁদের যেতে দেওয়া হোক, এমন আবেদন জানানোর পাশাপাশি আমেরিকা, ব্রিটেন সহ একাধিক দেশের তরফ থেকে নিজেদের দেশের প্রতিনিধিদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। রবিবার মার্কিন স্টেট ডিপার্মেন্ট জানিয়েছে, কাবুল বিমানবন্দরে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই সমস্ত দূতাবাসের প্রতিনিধিরাই উপস্থিত রয়েছেন। তাদের সুরক্ষার দিকটি নিশ্চিত করছে মার্কিন সেনা বাহিনী।

ইতিমধ্যেই গতকাল থেকেই বিমানবন্দরের ভিসা অফিসে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ইতিমধ্যেই কানাডার তরফে জানানো হয়েছে, তারা ২০ হাজার আফগান নাগরিককে আশ্রয় দিতে রাজি। তবে এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশি দেশ ইরান, পাকিস্তান, আমেরিকা, ইউরোপেও শরনার্থীদের ঢেউ পৌঁছে যাবে, এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে



