নজরবন্দি ব্যুরোঃ স্ত্রীর উপরে ‘হামলায়’ দু’জনকে সে ব্যবহার করেছিল—কেতুগ্রামের রেণু খাতুনের স্বামী শের মহম্মদ তাদের এমনই জানিয়েছে বলে দাবি পূর্ব বর্ধমান পুলিশের। তার এক ‘ঘনিষ্ঠের’ মধ্যস্থতায় শুধু মোটরবাইকের তেলের খরচ পেলেই, সে ‘কাজ’ করে দিতে রাজি হয় ওই দু’জন।
আরও পড়ুনঃ : মাতৃভাষাকে সম্মান জানালেন অরিজিৎ, হিন্দি বলয়ে হৃদয় দিয়ে গাইলেন লতার বাংলা গান!
সরকারি নার্সের চাকরি পাওয়া রেণু যাতে তাকে ছেড়ে আর কারও সঙ্গে যেতে না পারেন, তাই ‘হামলার ছক’ কষা হয়েছিল বলেও পুলিশকে জানিয়েছে সে। আর এই কাজ করতে মুর্শিদাবাদ থেকে ভাড়া করে এনেছিল দুই দুষ্কৃতীকে। তাদের পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছিল। যদিও তাদের বলেনি, আদৌ কী করতে হবে। দুষ্কৃতীদের ভাড়া করার জন্য শেরকে সাহায্য করেছিল এক আত্মীয়। দুই দুষ্কৃতীকে মোটরবাইকে চাপিয়ে কোজলসা গ্রামে শেরের বাড়ির কাছে পৌঁছে দিয়েছিল ওই আত্মীয়।
তখন শনিবার রাত ১২টা। ওই দু’ জনকে নিজের বাড়িতে ডেকে আনে শের। রেণু তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। এক দুষ্কৃতী তাঁর মুখের ওপর বালিশ চেপে ধরে। অন্য জন পা চেপে ধরে। ধস্তাধস্তিতে জেগে ওঠে রেণু। মুখের বালিশ সরিয়ে ফেলে। তখনই এক দুষ্কৃতী হাতুড়ি দিয়ে রেণুর মাথায় আঘাত করে। তাতে জ্ঞান হারান তিনি। এই সুযোগে কবজি থেকে হাত কেটে নেয় স্বামী শের মহম্মদ।
পুলিশের ধারণা একাধিক ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রী হাত কাটে সে। রেণুর শ্বশুর-শাশুড়ি শেখ সিরাজ ও মেহেরনিকা বিবিকে এ দিন ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। তদন্তকারীদের অনুমান, রেণুর উপরে ‘হামলার ছক’ তাঁরা জানতেন না।
বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ, রেণুর হাত কাটতে ভাড়া করা হয় লোক
দুর্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেণুর দাবি, ‘‘স্বামীকে বারবার বুঝিয়েছি, ছেড়ে যাব না। কাজের জায়গায় অনেক সহকর্মী, বন্ধু হয়। তা কি দোষের? আসলে চাকরি নিয়ে সমস্যা ছিল বলে এত বড় ক্ষতি করা হয়েছে আমার। আমাকে খুন করতে চেয়েছিল ও!’’



