পেন্টাগনের রিপোর্ট ঘিরে নতুন বিতর্ক, ভারত–চিন সম্পর্ক নিয়ে আমেরিকার ভূমিকা প্রশ্নের মুখে

এলএসি উত্তেজনা কমার আবহে বেজিংয়ের অভিযোগ—ভারত–চিন সমীকরণে বাধা দিতেই চিনের নীতি বিকৃত করে দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আমলে মার্কিন কূটনীতিতে যে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে, তারই মাঝে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল ওয়াশিংটন–বেজিং সম্পর্কে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন-এর সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট ঘিরে এবার ভারত–চিন সম্পর্ক নিয়েও তীব্র বাক্যবিনিময় শুরু হয়েছে।

পেন্টাগনের ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর উত্তেজনা কমিয়ে ভারত–চিন সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে চাইছে বেজিং, কিন্তু একই সঙ্গে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা গভীর হওয়া ঠেকানোও তাদের কৌশলগত লক্ষ্য। এই মূল্যায়ন প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল চিন।

বৃহস্পতিবার চিনের বিদেশ মন্ত্রক-এর মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, ভারত–চিন সম্পর্ককে যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করছে। তাঁর কথায়, “ভারত ও চিনের সীমান্ত প্রশ্ন সম্পূর্ণভাবে দ্বিপাক্ষিক বিষয়। তৃতীয় কোনও দেশের মন্তব্য বা বিচার আমরা মানি না।” তিনি জোর দিয়ে জানান, বেজিং এই সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখে।

চিনের বক্তব্য, সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগকে হাতিয়ার করে ভারত–মার্কিন সম্পর্ক দুর্বল করার অভিযোগ ভিত্তিহীন। বরং পারস্পরিক আস্থা বাড়িয়ে, যোগাযোগ জোরদার করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল ও টেকসই উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে প্রস্তুত তারা।

অন্যদিকে, পেন্টাগনের রিপোর্টে অরুণাচল প্রদেশকে তাইওয়ান ও দক্ষিণ চিন সাগরের মতো ‘সংবেদনশীল অঞ্চল’-এর সঙ্গে একই সারিতে রাখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, চিন তার ‘মূল স্বার্থ’-এর পরিধি বাড়িয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে তাইওয়ান, দক্ষিণ চিন সাগর, সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ এবং অরুণাচল প্রদেশ।

রিপোর্টে আরও উল্লেখ, ২০২৪ সালের অক্টোবরে এলএসি বরাবর অবশিষ্ট সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে ভারত ও চিন একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। তার দু’দিন পরেই ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদীশি জিনপিং-এর বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের পর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সরাসরি বিমান পরিষেবা, ভিসা সহজীকরণ এবং শিক্ষাবিদ–সাংবাদিক বিনিময় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

পেন্টাগনের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এলএসি-তে উত্তেজনা কমলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস কাটেনি। তাই ভারত সতর্ক অবস্থান বজায় রাখবে এবং সেই অনাস্থাই ভবিষ্যতে সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণ করবে।

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা সীমান্ত টানাপড়েনের পর ভারত–চিন সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করলেও, এই অগ্রগতি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের নতুন বাদানুবাদ স্পষ্ট করে দিচ্ছে—এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণে দিল্লি–বেজিং সম্পর্ক এখন আর শুধু দ্বিপাক্ষিক বিষয় নয়, বরং বৃহত্তর বৈশ্বিক রাজনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

বিজ্ঞাপন

আরও খবর