কলকাতা: তিন বছর পর মুক্তি। আর মুক্তির পরেই সরব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ফের আলোচনায়। বুধবার সকালে বেহালা পশ্চিমের বাড়িতে বসে সাংবাদিকদের সামনে তিনি জানালেন— “আমি নির্দোষ। প্রয়োজনে দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেব।”
এই বক্তব্যেই যেন স্পষ্ট, তিনি রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখবেন না। বরং, নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এবং সামাজিক সম্মান পুনরুদ্ধারে মরিয়া তিনি।


বেহালায় ‘দুয়ারে দুয়ারে’ গিয়ে মানুষের মুখোমুখি হবেন পার্থ
প্রাক্তন মন্ত্রীর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। “বেহালা পশ্চিমের মানুষ আমায় পাঁচবার বিধায়ক করেছেন। তাঁদের কাছে আমার দায় আছে। তাঁদের প্রশ্নের উত্তর আমাকেই দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি দরকার হয়, অটো চেপে বেহালার প্রতিটি বাড়িতে যাব। মানুষকে জানাব— আমি কোনও ভুল করিনি।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পার্থর এই মন্তব্য আসলে ‘রাজনৈতিক পুনরুত্থানের’ ইঙ্গিত। তৃণমূল তাঁকে দল থেকে সরিয়ে দিলেও তিনি এখনও বেহালার মানুষের কাছে প্রভাবশালী মুখ।



দল থেকে সাসপেন্ড হলেও আত্মবিশ্বাস অটুট
তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকেই পার্থ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন দলের অন্যতম সংগঠক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতি দীর্ঘদিনের। কিন্তু SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁকে দলের সমস্ত পদ থেকে সরানো হয় এবং পরবর্তীতে সাসপেন্ড করা হয়।
তবু জেল থেকে ফিরে পার্থ বুঝিয়ে দিলেন— তিনি এখনও হাল ছাড়েননি। যদিও তিনি প্রকাশ্যে তৃণমূলের নাম নেননি, তবু বারবার উল্লেখ করেছেন বেহালার মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্কের কথা।
এক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, “এটি একধরনের ইমেজ রিবিল্ডিং স্ট্র্যাটেজি। দীর্ঘ কারাবাসের পর পার্থ নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারে মাটিতে নামতে চাইছেন।”
বিধানসভা নির্বাচনে ফের প্রার্থী হবেন?
যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি পার্থ। তাঁর বক্তব্য— “এই মুহূর্তে আমার লক্ষ্য একটাই, বেহালার মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। রাজনীতি পরে।”
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এ বক্তব্য আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হতে পারে। দলের সাসপেনশন তুলে নেওয়া হলে তিনি ফের প্রার্থী হতে পারেন— এমন জল্পনাও তৈরি হয়েছে।
মানুষকে বোঝাতে মরিয়া প্রাক্তন মন্ত্রী
পার্থর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানাচ্ছে, জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আপাতত সময় কাটাচ্ছেন বেহালা পশ্চিমের বাড়িতে। দিনভর এলাকার মানুষের সঙ্গে দেখা করছেন, তাঁদের শুভেচ্ছা নিচ্ছেন।
এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর কথায়, “পার্থদা মানুষের ভালোবাসায় ভরসা রাখেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সময়ই প্রমাণ করবে তিনি দোষী নন।”
রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— “পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের প্রত্যাবর্তন কি তৃণমূলের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে?”







