নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত এবং রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। গত সোমবার থেকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
কিডনি ও ফুসফুসের সমস্যা বাড়ছে: হাসপাতাল সূত্রে খবর, সঠিক ভাবে কাজ করছে না হার্ট-কিডনি, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের কিডনি ও ফুসফুসের সমস্যার পাশাপাশি ক্রিয়েটিনিন, পটাশিয়াম এবং সোডিয়ামের মাত্রায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির জন্য খাদ্যাভ্যাস একটি বড় কারণ হতে পারে। জেলে হামেশাই খাসির মাংস খান পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
খাদ্যাভ্যাস ও তার প্রভাব: জেল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকদের দাবি, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের খাদ্যাভ্যাসের সংযমের অভাবই শারীরিক সমস্যার অন্যতম কারণ। জেল সূত্রে জানা যাচ্ছে, তিনি কুপন দিয়ে ক্যান্টিন থেকে নিয়মিত মাটন ও চিংড়ি মাছ কিনে খেতেন। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন এই ধরনের খাবার তাঁর তালিকায় থাকত। অথচ তাঁর শরীরে কোলেস্টরলের মাত্রা বেশি, যা রেড মিট এবং চিংড়ি মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক।
মানসিক চাপ ও খাওয়ার অভ্যাসের সম্পর্ক: পার্থ ঘনিষ্ঠরা মনে করেন, সহ-অভিযুক্তদের একে একে জামিন পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের জামিন পাওয়াও তাঁকে প্রভাবিত করেছে। এই মনোকষ্ট ভুলতেই হয়তো অতিরিক্ত খাবারের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়েছে।
খাদ্য রসিক পার্থ: পার্থ চট্টোপাধ্যায় খাদ্য রসিক হিসেবে পরিচিত। অতীতে বিধানসভা বা তৃণমূল ভবনে তাঁর উপস্থিতি মানেই সেখানে নানা ধরনের খাবারের আয়োজন থাকত। তবে তিনি শুধু নিজেই খেতেন না, চারপাশের মানুষকেও খাওয়াতে ভালোবাসতেন। চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থার উপর নজর রাখছেন। তবে তাঁর বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে জানা গিয়েছে।



