নজরবন্দি ব্যুরোঃ কেটে গিয়েছে ৬ টি মাস। জুলাই থেকে জানুয়ারি জেলে অন্দরে বসেই ঋতু পরিবর্তন দেখেছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। রাজকীয় জীবনযাপন ছেড়ে জেলের খাবার থেকে পরিবেশ সবকিছুর সঙ্গে বেশ মানিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ জাঁকিয়ে পড়ল শীত, আর তাতেই বেজায় বিপত্তিতে পার্থ চ্যাটার্জী। কারাজীবনে জোটেনি একটি খাটও, ফলে রাতে হচ্ছে না ঘুম। এজলাসে গিয়ে শিশুর মতোই একটি খাটের জন্য বায়না করলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ।


বৃহস্পতিবার জেল থেকে প্রাক্তন মন্ত্রীকে আলিপুর সিবিআই আদালতে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই সিবিআই (CBI) এর আবেদনে আপাতত ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁর আইনজীবীকে আদালতে তাঁর বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরতে বলেন। তবে কোনোক্রমে পার্থর সমস্যাটি পেশ করা যায়নি বিচারকের সামনে।

জামিনের আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন তিনি, অন্তত প্রচন্ড শীতের কথা মাথায় রেখে একটি খাটের আবেদন তো তিনি করতেই পারেন। পার্থ তাঁর মনের কথা জানান আইনজীবীকে। গোটা শহর যখন ঠাণ্ডায় কাবু, তখন মেঝেতে বিছানা পেতে ঘুমোতে হচ্ছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। একটা খাটিয়া পাওয়া গেলেও এই প্রচন্ড শীত তাতে মানছে না। সত্তরোর্ধ বৃদ্ধকে একটি খাটের বন্দোবস্ত করে দেওয়ার জন্য করুন আর্জি তার। তাছাড়া এরম জীবনযাপনে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী অভ্যস্ত নন। এরপরই পার্থর আইনজীবী আদালতে তাঁর মক্কেলের জন্য একটি খাটের আবেদন করেন।


প্রচণ্ড শীতে একটি খাটের জন্য হাহাকার প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর, পার্থর দূর্বিষহ জেলজীবন

তবে শীত বড়ো বালাই! একথা সত্যি হলেও এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায় কে যে মুষড়ে পড়তে দেখা গিয়েছিল তা কি শুধু শীতের ভারে? নাকি তার পিছনে রয়েছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ধানের পোকা ছেঁটে ফেলার বার্তা। পার্থকে ভিলেন করে ভাবমূর্তি ফেরাতে চাইছে তৃণমূল? আর সেইজন্য কি শৈতপ্রবাহ বইছে পার্থ চ্যাটার্জীর মধ্যে? রাজনৈতিক মহল তুলছেন প্রশ্ন।







