নজরবন্দি ব্যুরোঃ শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি বাংলায় পাহড় গড়েছে। সেই দুর্নীতির জালে জড়িয়ে কারাগারে দিন কাটছে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। সিবিআইয়ের চার্জশিটে এবার পার্থর বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। দুর্নীতির ক্ষেত্রে টিম গেম খেলত পার্থ। নিজের দফতরে বসে চাকরি বিক্রির জাল তৈরি করতেন পার্থ। সেকারণে পছন্দের একটি টিম তৈরি করেছিলেন তিনি।


সিবিআই সূত্রে খবর, ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে নতুন চার্জশিটে। শিক্ষক নিয়োগ থেকে দফতরের আধিকারিকদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হত বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সিবিআইয়ের তরফে দাবি করা হয়েছে, নিয়োগে বেনিয়মের পথ সুগম করতেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তি প্রসাদ সিনহা। স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়ম ভেঙেই সচিব করা হয়েছিল। নিয়োগ সংক্রান্ত রেকমেন্ডেশন লেটারে স্ক্যানড সই ব্যবহার নিজের ওএসডির মাধ্যমে চাকরি প্রার্থীদের তালিকা পাঠাতেন পার্থ। পার্থর সঙ্গে ওএসডির চ্যাট হিস্ট্রি থেকেই এই দাবি করছে সিবিআই।

সিবিআইয়ের তরফে দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতিতে সায় না দেওয়ার কারণে এসএসসির সেন্ট্রাল কমিশনের চেয়ারম্যান শর্মিলা মিত্রকে, এসএসসি প্রাক্তন চেয়ারম্যান সৌমিত্র সরকারকে সরিয়ে দেন পার্থ। পরবর্তীকালে সেই পদে সুবীরেশ ভট্টাচার্যকে এনেছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।


এছাড়াও সিবিআইয়ের তরফে দাবি করা হয়েছে, ২০১৯ সালের গ্রুপ সির পরীক্ষার সমস্ত উত্তরপত্র নষ্টের অভিযোগ উঠেছে পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ এই টিমের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের নবম-দশমের মামলায় ১২ জনের নাম যুক্ত করল সিবিআই৷ নবম দশম মামলায় প্রথম চার্জশিট। এর পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে আরও সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা করা হতে পারে।
দুর্নীতির ক্ষেত্রে টিম গেম খেলত পার্থ, বিস্ফোরক দাবি সিবিআইয়ের

সেই তালিকায় রয়েছে, শান্তিপ্রসাদ সিনহা, অশোক কুমার সাহা, সুবীরেশ ভট্টাচার্য, কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, পর্ণা বসু, সমরজিৎ আচার্য, প্রসন্ন রায়, প্রদীপ সিং, জুঁই দাস, আজাদ আলি মির্জা, ইমাম মোমিন, রোহিত কুমার ঝাঁ। এদের মধ্যে একাধিক জন ইতিমধ্যেই জেল হেফাজতে৷ আগামী দিনে এই তালিকা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।







