নজরবন্দি ব্যুরোঃ আমাদের বাঁচান মুখ্যমন্ত্রী। কাতর আবেদন রাজ্যের ১০ হাজার শিক্ষকের। বিশ্বজুড়ে করোনার দাপট চলছে, আমাদের দেশ তথা রাজ্যতেও ক্রমশ বাড়ছে সংক্রমনের সংখ্যা। আর এই পরিস্থিতিতে সবথেকে খারাপ অবস্থায় পড়েছেন দিন আনা দিন খাওয়া মানুষজন এবং কম বেতনের বা অস্থায়ী কর্মীরা। সেইরকমই কার্যত অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন অসংখ্য শিক্ষক। সারা রাজ্যে এই শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ১০ হাজার। এই আংশিক সময়ের শিক্ষকদের নিয়োগ করে এবং বেতন দেয় স্কুল কমিটি। বেতন ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা। এই পারিশ্রমিকে চাকরি আর বাড়িতে গৃহ শিক্ষকতা করা এই দুইয়ের সংমিশ্রনে সংসার চলে রাজ্যের প্রায় ১০ হাজার পরিবারের।
আর পড়ুনঃ ১ সেপ্টেম্বর থেকে চলতে পারে লোকাল ও মেট্রো। রেল কে চিঠি নবান্নের।
দীর্ঘ লকডাউনে গৃহ শিক্ষকতা এবং স্কুল থেকে পাওয়া সামান্য অর্থ দুটোই বন্ধ।আংশিক সময়ের বিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠন(SPTTA) জানিয়েছে, নিজেদের এই দূর্দশা গ্রস্ত অবস্থাতেও তাঁরা চাঁদা তুলে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রান তহবিলে অর্থ প্রদান করেছেন। রাজ্যের এই কঠিন দুঃসময়ে তাঁরা প্রায় ১৮ হাজার টাকা দান করেছেন মুখ্যমন্ত্রীর তহবিলে! সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “সরকার আমাদের আবেদনে সাড়া দেন নি। এই অসুবিধার মধ্যেও আমাদের সংগঠন মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে ১৭ হাজার ৮০০ টাকা দান করেছে।”
আমাদের বাঁচান মুখ্যমন্ত্রী। আংশিক সময়ের বিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠন(SPTTA) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে সরাসরি ইমেইল করে তাঁদের চরম সংকটজনক অবস্থার কথা জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী কে মেইল পাঠিয়ে শিক্ষকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে “আমরা রাজ্যের বিভিন্ন জেলার স্কুলের পার্ট টাইম শিক্ষক। স্কুল কতৃপক্ষ আমাদের নিয়োগ করেন এবং অতি অল্প বেতন দেন। আমাদের কাজের কোনো স্থায়ীত্ব নেই। কলেজর অতিথি অধ্যাপক ও আংশিক সময়ের অধ্যাপক গনও আমাদের মতো কলেজ কতৃপক্ষ দ্বারা নিযুক্ত হন। তাদের সরকার স্থায়ীকরন করেছেন।”
চিঠিতে এই শিক্ষক গন আরও লিখেছেন, “আমরাও বেকার, তাই সরকারের কাছে আমাদের স্থায়ীকরনের আবেদন করেছি। DI, DM, শিক্ষা মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, বিকাশ ভবন, নবান্ন, কালিঘাট,মানবাধিকার কমিশন, শিক্ষা কমিশনার, ডেপুটি ডিরেক্টর, সকলের কাছে আবেদন করা হয়েছে।বিকাশ ভবনে একটি বিশাল মিছিল সহ ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে।ফেসবুক, WhatsApp, ই-মেল, ট্যুইটার, সকল স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমেও আবেদন নিবেদন করা হয়েছে। আমাদের এত অসুবিধার মধ্যেও আমরা সরকারের ত্রাণ তহবিলে যথাসাধ্য অর্থ সাহায্য করেছি। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আমাদের বাঁচান।”



