গ্রামবাংলার ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজের সুযোগ দিতে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। সপ্তদশ বিধানসভার শেষ দিনে পাস হল পঞ্চায়েত আইনের সংশোধনী বিল, যেখানে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সময়সীমা আড়াই বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করা হয়েছে। সরকারের দাবি, মানুষের রায়ের মর্যাদা রক্ষা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ।
শনিবার বিধানসভায় পাস হওয়া এই সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের নির্বাচিত পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে তিন বছর পূর্ণ না হলে অনাস্থা প্রস্তাব আনা যাবে না। এতদিন এই সময়সীমা ছিল আড়াই বছর। বিলটি আইনে পরিণত হতে এখন রাজ্যপালের সম্মতি প্রয়োজন।
বিল পাসের পর পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানান, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় নতুন জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগে। ডিসেম্বরের পর গ্রামে ধান ও অন্যান্য ফসল ঘরে ওঠার সময় থেকেই উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়ে। পাশাপাশি আর্থিক বছরের শুরুতে প্রকল্পের বরাদ্দ আসে, ফলে কাজের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন হয়।
মন্ত্রী বলেন, “মানুষ জনপ্রতিনিধিদের পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করেন। সেই রায়কে সম্মান জানিয়ে তাঁদের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া জরুরি। তাই অনাস্থা আনার সময়সীমা আড়াই বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করা হয়েছে।” উল্লেখযোগ্য, ২০১৫ সালে এই সময়সীমা এক বছর থেকে বাড়িয়ে আড়াই বছর করা হয়েছিল।
বিধানসভায় বিল নিয়ে বিতর্কের সময় বিজেপি বিধায়ক অরূপ দাস অভিযোগ করেন, ভোটের আগে অন্তর্দলীয় কোন্দল ঠেকাতে শাসকদলই অনাস্থার সময়সীমা বাড়িয়েছে। তাঁর দাবি, সরকার গ্রামসভা ও শহরে ওয়ার্ড কমিটির ব্যবস্থা তুলে দিয়েছে।
যদিও বিরোধীদের এই অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূলের বিধায়ক অপূর্ব সরকার ও সমীর জানা পাল্টা জানান, বিজেপি বিধায়করা গ্রামের বাস্তব চিত্র জানেন না। তাঁদের বক্তব্য, প্রতি বছর শীতের ফসল ঘরে ওঠার পর ডিসেম্বরের মধ্যেই গ্রামসভা হয়, সেখানে মানুষের দাবি অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাজেট অনুমোদন করা হয়।
অপূর্ব সরকারের মতে, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে জনপ্রতিনিধিদের নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন। সেই দিক থেকে অনাস্থার সময়সীমা তিন বছর করা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার আরও বলেন, কেন্দ্রীয় বঞ্চনার মধ্যেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলার গ্রামীণ উন্নয়ন থেমে নেই। সেই উন্নয়নের ধারাকে আরও গতি দিতেই অনাস্থার সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



