বৃহস্পতিবার সন্ধ্যেবেলা নবান্নে এলেন দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম। রাজ্য সরকারের সদর দফতরের ১৪ তলায় বসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিটের কাছাকাছি বৈঠক করলেন তিনি। আর মমতা-চিদম্বরমের এই বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলের শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
আরও পড়ুন: বিজেপি রুখতে তৃণমূলকেই চায় মানুষ, দলীয় বৈঠকে মেনে নিল CPIM


আগামী ২৪ জুন থেকে শুরু লোকসভার প্রথম অধিবেশন। তার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরমের এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কিন্তু, ঠিক কী বিষয় নিয়ে দু’জনের আলোচনা হয়েছে তা বলতে চাননি কেউই। বৈঠক শেষে সোজা নিজের গন্তব্যের দিকে পা বাড়ান বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা। তবে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বেশকিছু আভাস পাচ্ছেন এই বৈঠকের কারণ নিয়ে।

প্রথমত, এবারের লোকসভায় ‘ইন্ডিয়া’ জোট ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। এই নাম দেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মনে করা হচ্ছে, চিদম্বরমকে দূত হিসাবে পাঠিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বা মল্লিকার্জুন খাড়গে। প্রথম লোকসভা থেকেই যাতে বিজেপি তথা এনডিএ সরকারের ওপর কীভাবে চাপ সৃষ্টি করা যায় তা নিয়ে মমতার থেকে ‘বুদ্ধি’ চাইতে পারে হাত শিবির।
তাছাড়া, লোকসভার স্পিকার পদ বিজেপি নিজেদেরই দখলে রাখছে। মাথা নত করে নিয়েছেন চন্দ্রবাবু নায়ডু বা নীতীশ কুমার। সেক্ষেত্রে ডেপুটি স্পিকার পদে নিজেদের প্রার্থী বসাতে চায় ‘ইন্ডিয়া’। সেই পদে তৃণমূলের কোনও সাংসদকে নিয়েও ভাবা হতে পারে বলে জল্পনা।



১০ বছর পর লোকসভার বিরোধী আসন ফিরে পেয়েছে কংগ্রেস। ৫৩ আসন থেকে একধাক্কায় তারা বেড়ে হয়েছে ৯৯। কিন্তু, আট রাজ্যে কংগ্রেসের ফল ভালো নয়। আসনের নিরিখে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সমাজবাদী পার্টি। তৃতীয় স্থানে তৃণমূল। বিজেপিকে বাংলায় রুখে দিতে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও বিকল্প নেই তা কার্যত স্পষ্ট।
নবান্নে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মমতা-চিদম্বরম, তৃণমূলের হাতেই INDIA জোটের রাশ ছাড়ছে কংগ্রেস!

এবারের লোকসভায় এই রাজ্যেই বিজেপি সবচেয়ে চালো ফল করবে বলে দাবি করেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লাগাতার প্রচার, ইডি-সিবিআই হানা, সন্দেশখালিতে নারী নির্যাতন ইস্যু- তৃণমূলকে সবদিক থেকেই কোণঠাসা করতে চেয়েছিল বিজেপি। সেখানে এই ফল যেটা দেখা যাচ্ছে তা একেবারেই ‘সহজে’ প্রাপ্ত নয়। তাই জোট ইন্ডিয়ার শরিক হিসাবে তৃণমূলকে পাশে পেতে কংগ্রেস আগে থেকে উদ্যোগ শুরু করেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।







