ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে সংসদের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ তৈরি হল। লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলের আনা অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার থেকে শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও সম্ভাব্য ভোটাভুটি হতে পারে। বিরোধীদের অভিযোগ, স্পিকার হিসেবে ওম বিড়লা সংসদ পরিচালনায় পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব চলাকালীন লোকসভার সচিবালয়ে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস জমা দেন কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক কে সুরেশ। সেই নোটিসে কংগ্রেসের পাশাপাশি সমাজবাদী পার্টি (এসপি), ডিএমকে, শিবসেনা (ইউবিটি) এবং এনসিপি (শরদ পওয়ার গোষ্ঠী)-সহ একাধিক বিরোধী দলের সাংসদ সই করেছিলেন। তবে সে সময় তৃণমূলের কোনও সাংসদের সই ছিল না।


পরবর্তীতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং লোকসভায় দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিজেপি-বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ভুক্ত দলগুলির যৌথ অবস্থান স্পষ্ট হলে তৃণমূল এই প্রস্তাবে সমর্থন দেবে। সেই অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পরই স্পিকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের পদক্ষেপে সমর্থন জানানোর সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, লোকসভার বাজেট অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী সাংসদকে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, আট জন সাংসদকে একতরফাভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
লোকসভায় কংগ্রেসের সহকারী দলনেতা গৌরব গগৈ তখন বলেন, “স্পিকারের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের প্রতিবাদেই আমরা তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছি।”


অনাস্থা নোটিস জমা পড়ার পর লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল উৎপলকুমার সিংহকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন স্পিকার ওম বিড়লা। এরপর বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বের বাকি সময় তিনি আর অধিবেশন পরিচালনা করেননি।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৪(সি) অনুযায়ী লোকসভার স্পিকারকে পদ থেকে অপসারণ করা সম্ভব। তবে তার জন্য লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। প্রস্তাবটি আনার জন্য কমপক্ষে ১৪ দিন আগে লিখিত নোটিস দিতে হয়।
সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিসে অন্তত দু’জন সাংসদের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক। তবে সর্বোচ্চ কতজন স্বাক্ষর করতে পারেন তার কোনও সীমা নেই। এবারের প্রস্তাবে ইতিমধ্যেই প্রায় ১২০ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে বর্তমান সংসদীয় সমীকরণ অনুযায়ী এই প্রস্তাব পাশ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কারণ লোকসভায় বিজেপি এবং তার শরিকদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখনও স্পষ্ট।
ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে অতীতেও একাধিকবার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষেত্রেই সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।








