ভোট গণতন্ত্রের উৎসব, আপনারা জবরদখলের চেষ্টা করছেন কেন? বড়বাজারে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ মমতার

বড়বাজারের সভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী, তদন্ত সংস্থা ও প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেন মমতা, ভোটারদের সতর্ক করলেন অধিকার রক্ষার বার্তা দিয়ে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোট গণতন্ত্রের উৎসব—এই বার্তাকেই সামনে রেখে বড়বাজারের সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘জবরদখল’ ও প্রশাসনিক চাপের অভিযোগ তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন থেকে শুরু করে বিরোধী কণ্ঠ দমনের চেষ্টা—একাধিক ইস্যুতে সরব হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “বাংলা দখল করতে এলে পাল্টা লড়াই হবে।” একই সঙ্গে ভোটারদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা—নিজের ভোট নিজে না দিলে ভবিষ্যতে অধিকার খর্ব হতে পারে।

মঙ্গলবার একাধিক জনসভা সেরে কলকাতার জোড়াসাঁকো কেন্দ্রের প্রার্থী বিজয় উপাধ্যায়ের সমর্থনে বড়বাজারের সত্যনারায়ণ পার্কের কাছে সভা করেন তৃণমূল নেত্রী। এর আগে হলদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলেও প্রচার সেরেছেন তিনি। সভামঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে মমতার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “ইডি-সিবিআই এখন বিজেপির হাতের পুতুল—চোখে দেখে না, কানে শোনে না।”

প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, “আগে সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদেশ সফরে যেতেন, এখন আর সেই সুযোগ নেই। প্রশ্নও আগে থেকে নির্ধারিত থাকে।” পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনা করে দাবি করেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি বেসরকারিকরণের মাধ্যমে দেশের সম্পদ বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।

বড়বাজারের সভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “দুই লক্ষেরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী এনে ভোটের পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা হচ্ছে। গণতন্ত্রে ভোট তো উৎসব—তাহলে এই দখলদারি কেন?” একই সঙ্গে হেমন্ত সোরেনের সভার উদাহরণ টেনে কেন্দ্রের ‘অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ’-এর অভিযোগও তোলেন তিনি।

ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল আরও স্পষ্ট—“প্রত্যেকে নিজের ভোট নিজে দেবেন। না হলে এনআরসি, ডিটেনশন ক্যাম্প—সবই হতে পারে। অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে।” বিজেপিকে উদ্দেশ করে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “আমাকে ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না। প্রতিবাদ চলবে।”

করোনাকালীন সময়ের কথা স্মরণ করে বড়বাজারের ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার দাবিও করেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, “যখন সবাই ভয়ে ঘরে ছিল, তখন আমি এসে দোকান খুলতে বলেছিলাম। শ্রমিকদের কাজ দেওয়ার কথা বলেছিলাম।” একই সঙ্গে নোটবন্দির সময় থেকেই তিনি সাধারণ মানুষের আর্থিক সঙ্কটের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন বলে জানান।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে বড়বাজারের এই সভা রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

-বিজ্ঞাপন- Shamim Ahamed Ads
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত