নজরবন্দি ব্যুরোঃ গলা এপার-ওপার করে ফুঁড়ে দিয়েছে ত্রিশূল। প্রাণ নিয়ে টানাটানি। রক্তে ভেসে যাচ্ছে বুক। রক্তাক্ত অবস্থায় সোমবার ভোররাতে কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসা হয় এক যুবককে। তখনও গলায় বিঁধে রয়েছে ত্রিশূল। রোগীর এমন সাংঘাতিক অবস্থা দেখে চমকে ওঠেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। দ্রুত খবর পাঠানো হয় অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত তৃণমূল, পঞ্চায়েত ভোটের আগে চড়ছে রাজনীতির পারদ।

নিপুণ দক্ষতার সঙ্গে তৎক্ষণাৎ জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। প্রাণ বাঁচে যুবকের। ঘড়িতে তখন রাত তিনটে বাজে। কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ (NRS)-এর জরুরি বিভাগে হাজির হলেন এক ব্যক্তি। যাকে দেখে চক্ষু চড়কগাছ দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীর। গলায় কোনাকুনিভাবে এফোঁড় ওফোঁড় করে বিঁধে রয়েছে এক আস্ত ত্রিশূল।

ঘাড়ের পিছন দিকে বেরিয়ে ধারালো ত্রিশূলের ফলা, সামনে বিঁধে ত্রিশূলের এক হাত লম্বা সূঁচালো অংশটি। গোটা মুখ রক্তে মাখামাখি। গলা-ঘাড় থেকে অবিরাম ঝরে পড়ছে রক্ত। ভিজে গিয়েছে জামাকাপড়। সঙ্গে সঙ্গে যুবককে ইএনটি বিভাগে নিয়ে গিয়ে চোটের অংশের প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু করেন দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক। ব্যাপক রক্তক্ষরণে যুবকের তখন যায় যায় অবস্থা।
গলা এপার-ওপার করে ফুঁড়ে দিয়েছে ত্রিশূল, নীলরতনে নবজন্ম যুবকের।

হাউস স্টাফ খবর পাঠান নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের শল্যচিকিৎসায় দক্ষ চিকিৎসকদের কাছে।
চক্ষু-কর্ণ-গলা (ENT) দফতরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডাঃ প্রণবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এসে দেখেন যুবককে। তৎক্ষণাৎ অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে এক চিকিৎসক দল সম্পন্ন করেন এই জটিল অস্ত্রোপচার। প্রাণ বাঁচে যুবকের।



