নজরবন্দি ব্যুরোঃ কেউ থাক বা না থাক মোর্চায় থাকছে ISF, আজ জোত প্রসঙ্গে একথাই জানিয়েছেন মোর্চার একলা বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। বাংলায় ২১ এর ভোট পর্বের আগে মমতা সরকার আর গেরুয়া শিবির উভিয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে শ্রমজীবী মানুষের হকের কথা নিয়ে জোট তৈরি করেছিল বাম কংগ্রেস আর আইএসএফ।
আরও পড়ুনঃ দেশে আরও একমাস বহাল থাকবে কোভিড বিধি, রাজ্যগুলিকে চিঠি কেন্দ্রের
জোটের নাম হয়েছিল সংযুক্ত মোর্চা। ভোট কালে প্রচার হয়েছে একসঙ্গে। ফলাফলে দেখা গেছে স্বাধীনতার পর প্রথম বার রাজ্য বিধানসভায় জায়গাই পেলনা বাম কংগ্রেস। ফলাফল শূন্য। অন্যদিকে প্রথম বারেই খাতা খুলে গোটা জোটের পক্ষের একলা বিধায়ক হয়ে বিধানসভায় গেলেন আব্বাস সিদ্দিকির ভাই নওশাদ।
তবে ভোট মেটার পর থেকেই মোর্চার জোটের জোট নজরে পড়েছে সকলের। ভোটের আগে বামেদের শরিক দলেরা বারবার অনুযোগ করেছিল ISF এর সঙ্গে জোট নিয়ে, ফলাফলের পরে তারাই অভিযোগ করেছিল হারের কারণ আইএসএফ এর সঙ্গে জোট।
সিতারাম ইয়েচুরিও সাফ জানিয়েছেন জোট ছিল ভোটের স্বার্থে। এদিকে জোট নিয়ে বহু দিন ধরেই বেঁকে বসে আছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তিনি জানিয়েছিলেন, জানিয়েছিলেন কেবল বিধানসভা ভোটের স্বার্থেই জোট সেকুলার ফ্রন্টের সঙ্গে জোট বেঁধেছিল কংগ্রেস।
তার পর থেকেই ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙছে জোটের স্বার্থে চুপ থাকা আব্বাস সিদ্দিকির দলের। দিন কয়েক আগেই নওশাদ জানিয়েছিলেন আজ-কাল করে সময় দিচ্ছেন না বাম নেতারা। তার পরেও সুর নরম ছিল খানিক। বলেছিলেন, “আমরা সংযুক্ত মোর্চার সঙ্গে রয়েছি। কিন্তু এই মোর্চার অন্য দল আমাদের সম্পর্কে মন্তব্য করছে। মোর্চার শর্তে আমরা এখনও পর্যন্ত চুপ আছি। কিন্তু কতদিন পর্যন্ত চুপ থাকব।
কেউ থাক বা না থাক মানুষের জন্য একলা লড়ে যাবেন সিদ্দিকি ভাইয়েরা, বার্তা নওশাদের।

নওশাদের যুক্তি ছিল “ব্রিগেডের মিটিংয়ে ঘোষণা হয়েছিল যে সংযুক্ত মোর্চা কোনও নির্বাচনী জোট নয়। এটা একটা আন্দোলনের মঞ্চ। কিন্তু এখন সিপিএম নিজেই উল্টো পথে হাঁটা শুরু করছে।” সঙ্গেই তিনি যোগ করেনছিলেন, “সিপিএম কিন্তু সংযুক্ত মোর্চার মালিক নয়। যারা শাসকদলের চাটুকারিতা করছে, তাদের নিয়ে সংযুক্ত মোর্চা চলতে পারে না।”
এসবের পরেই জোটের ভবিষ্যৎ এবং তাতে সিদ্দিকিদের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে, ভাঙড়ের বিধায়ক জানান, “কংগ্রেস যদি বেরিয়ে যেতে চায় যেতেই পারে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে অত্যাচারিত মানুষ, শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থে এই জোট গঠিত হয়েছিল। এর পর কেউ বেরিয়ে গেলে যারা থাকব তাঁরাই লড়াই করব।”
একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে ২৪ এর ভোটের আগে বিজেপি বিরোধী শিবির তৈরি হচ্ছে দেশের বিরোধী দলগুলি নিয়ে, সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে নওশাদ সাফ জানান, “আমরা এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি। সামনে আরও নির্বাচন আসছে সেগুলো নিয়েই আমরা ভাবছি। তবে সংযুক্ত মোর্চার থেকে কেউ দিল্লিতে আলাদা করে জোট করতেই পারে। আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। সংযুক্ত মোর্চা শুধু রাজ্যের।”



