শ্বাসনালীতে নাকছাবি আটকে গেল ২৮ দিনের শিশুর, প্রাণ বাঁচাল SSKM

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ শ্বাসনালীতে নাকছাবি আটকে গেল ২৮ দিনের শিশুর, কার্যত অসাধ্যসাধন করে প্রাণ বাঁচাল এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতাল। বাড়িতে এসেছে কন্যা সন্তান তাই ২৮ দিনের মাথায় নাক ফুটো করে সোনার নাকছাবি পরানোর অনুষ্ঠান চলছিল। বাড়িতে আত্মীয়পরিজনের সামনেই চলছে নাকে নাকছাবি পরানোর কাজ। আচমকাই বিপত্তি। যিনি নাকছাবি পরাচ্ছিলেন তাঁর হাত ফসকে গেল!

আরও পড়ুনঃ মুখ্যমন্ত্রী বললে জেল খেটে নেব, দেহরক্ষী মৃত্যু কাণ্ডে মুখ খুললেন শুভেন্দু!

নাক থেকে হড়কে নাকছাবি পড়ল সোজা মুখে! প্রায় সাথে সাথেই, শ্বাসনালীতে নাকছাবি আটকে গেল ২৮ দিনের শিশুর। কিছুক্ষনের মধ্যেই শুরু হল শ্বাসকষ্ট। ঘটনাস্থল মুর্শিদাবাদ। শিশুটির মা জাহিদা বিবি সহ পরিজনরা দ্রুত ২৮ দিনের শিশুকে নিয়ে যায় স্থানীয় হাসপাতালে। কিন্তু সেই হাসপাতাল বলে তাঁদের সেখানে শ্বাসনালী থেকে নাকছাবি বার করার কোন ব্যাবস্থা নেই।

স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরামর্শ দেয় শিশুটিকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। মায়ের মন কোন বাঁধা মানেনি। স্থানীয় হাসপাতালের পরামর্শ মত মুর্শিদাবাদ থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে তাঁরা শিশুটিকে নিয়ে পৌঁছান এসএসকেএম হাসপাতালে। ২৮ দিনের শিশু ভাল করে শ্বাস নিতে পারছিল না সাথে মায়ের দুধ পর্যন্ত খেতে পারছিল না তখন। ক্রমশ শঙ্কটজনক হচ্ছিল পরিস্থিতি।

শ্বাসনালীতে নাকছাবি আটকে গেল ২৮ দিনের শিশুর, প্রাণ বাঁচাল SSKM

এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দ্রুত ভর্তি করে নেয় হাসপাতাল। সাথে সাথেই শুরু হয় চিকিৎসা। অভিজ্ঞ সার্জন একটি সরু নল ঢুকিয়ে দেন শিশুটির গলা দিয়ে। যে নলের সামনে থাকে ক্যামেরার লেন্স। শিশুর গলার ভিতরের ছবি ফুটে ওঠে একটি স্ক্রিনে। দেখা যায় গলার নীচের অংশের ইসোফেগাসের দেওয়ালে আটকে ঝুলছে সোনার নাকছাবি! পরে সেই ছবি দেখেই ইসোফেগাস এন্ডস্কোপির মাধ্যমে শিশুর প্রাণ বাঁচালেন চিকিৎসকরা।

অস্ত্রপচার হয়েছে নবজাতক বিভাগের সার্জন দীপঙ্কর রায়ের নেতৃত্বে। তিনি জানিয়েছেন অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ ছিল এই অস্ত্রপচার। তবে তা সফল হয়েছে। ডাক্তার রায়ের পর্যবেক্ষন চোখের সামনে শ্বাসনেওয়ার অভাবে নেতিয়ে পড়ছিল শিশুটি। তবে অপারেশনের পর অবস্থা স্থিতিশীল। আপাতত আইসিইউ তে রাখা হয়েছে ২৮ দিনের একরত্তিকে। ৭২ ঘণ্টা কঠোর পর্যবেক্ষনে রাখা হবে তাঁকে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত