১৯৬৮ সালের লক্ষ্মী পুজোর দিনে জলপাইগুড়ির বন্যা, ২০২১-এ মনে করাল তিস্তা!

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

জলপাইগুড়ি, ২০ অক্টোবরঃ নিম্নচাপের জেরে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং জলপাইগুড়ি জেলা সহ উত্তরবঙ্গের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই। এরফলে ব্যপক হারে জল বেড়েছে তিস্তা, মহানন্দা সহ প্রতিটি নদীতেই। তিস্তায় জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় তিস্তার বাঁধে একাধিক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীর বাঁধ উপচে জল ঢুকে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ময়নাগুড়ি ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রাম। নষ্ট হয়েছে একরের পর একর জমির ফসল। সব মিলিয়ে আতঙ্কিত বন্যা দূর্গত এলাকার মানুষেরা। তাদের এখন একটাই চিন্তা, ১৯৬৮ সালের লক্ষ্মী পুজোর মতন এবারও একই পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হবে নাতো তাদের?

আরও পড়ুনঃ রাজ্যে লাফিয়ে বাড়ল করোনা সংক্রমণ, কলকাতায় আড়াইশো ছুঁই ছুঁই, এবার তৃতীয় ঢেউ?

টানা ৪৮ ঘন্টার লাগাতার বর্ষনে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে পাহাড় থেকে বয়ে আসা তিস্তা। পাহাড় থেকে প্রবল জলধারা নিয়েই জলপাইগুড়ি জেলাতে এসেই তৈরী করেছে বন্যা পরিস্থিতি। তিস্তার জল ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গাজলডোবা ক্যানেল থেকে জল ছাড়তে বাধ্য হয় তিস্তা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। রাত বারোটা পর্যন্ত ৭০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে তিস্তা নদীর গাজলডোবা ব্যারেজ থেকে। আর এর ফলেই নদী বাঁধ ছাপিয়ে ময়নাগুড়ি ব্লকের নদী লাগোয়া বেশ কয়েকটি গ্রামে হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করে গভীর রাতে।

১৯৬৮ সালের লক্ষ্মী পুজোর দিনে জলপাইগুড়ির বন্যা, ২০২১-এ মনে করাল তিস্তা!
১৯৬৮ সালের লক্ষ্মী পুজোর দিনে জলপাইগুড়ির বন্যা, ২০২১-এ মনে করাল তিস্তা!

জলমগ্ন হয়ে পড়ে ব্লকের ক্রান্তি, মৌয়ামারি, চাপাডাঙা, নন্দনপুর, বোয়ালমারী, পাতকাটা, উত্তর মরিচবাড়ি, মরিচবাড়ী, দোমহনি, দুপপাড়া দোমহনি, পদমতি ১, পদমতি ২, বাকালী, বার্নিশ, বাসুসুবা ইত্যাদি এলাকা। ময়নাগুড়ি ব্লকে বাসুসুবা চাতরাপার এলাকায় তিস্তা বাঁধের বেশ কয়েকটি জায়গায় ফাটল দেখা দেয়। গ্রামে জল ঢুকতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। জলের তলায় চলে যায় একরের পর একর জমির ফসল। এর ফলেই মাথায় হাত পড়েছে এলাকার চাষীদের। এই দূর্গত গ্রামগুলির কয়েক হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিরাপদ স্থানে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন রয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল।

১৯৬৮ সালে লক্ষ্মী পুজোর দিন তিস্তার বাঁধ ভেঙ্গে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল জলপাইগুড়ি সহ ময়নাগুড়ি ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায়। এই বন্যায় প্রাণ হারিয়েছিল হাজার হাজার মানুষ ও গবাদিপশু। আজও মনে সেই চিত্র জ্বলজ্বল করে জেলার প্রবীন নাগরিকদের। এবারও সেই একই পরিস্থিতি তৈরী হবে নাতো জলপাইগুড়ির? সেই চিন্তাতেই ঘুম কেড়েছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের। তিস্তার ভয়াবহ রূপ সেই স্মৃতীকেই উসকে দিয়েছে। স্বজন হারা এক ব্যক্তি মুরারী রায় বলেন, “আমি তখন ছোট, বাড়ি ছিল পুঁটিমারী এলাকায়। লক্ষ্মী পূজার দিন এমন বন্যা হল যে, কে কোথায় চলে গেলাম কারোর খোঁজ নেই। যে যেখানে পেরেছি আশ্রয় নিয়েছিলাম। সেই দিনের কথা এখন ভাবলে গাঁয়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।”

১৯৬৮ সালের লক্ষ্মী পুজোর দিনে জলপাইগুড়ির বন্যা, ২০২১-এ মনে করাল তিস্তা!

১৯৬৮ সালের লক্ষ্মী পুজোর দিনে জলপাইগুড়ির বন্যা, ২০২১-এ মনে করাল তিস্তা!
১৯৬৮ সালের লক্ষ্মী পুজোর দিনে জলপাইগুড়ির বন্যা, ২০২১-এ মনে করাল তিস্তা!

তবে একুশের এই তিস্তার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তিস্তার বাঁধে যে সব জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে, সেগুলোকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামত করা হচ্ছে। বন্যা কবলিত এলাকা থেকে সবাইকে নিরাপদে আনা হয়েছে। তাদের থাকার এবং খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকী বিষয়ের প্রতি নজর রাখা হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বৃষ্টি কিছুটা কমে যাওয়ায় বর্তমানে জলস্তর অনেকটা কমেছে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত