নজরবন্দি ব্যুরো : শ্বাসকষ্ট কমাতে পুরোপুরি কার্যকর নয় কোনও ভ্যাকসিনই! করোনা সংক্রমণ এবং প্রতিরোধে ভ্যাকসিন নিয়ে জোর চর্চ্চা চলছে জনমানসে। এদিন অবশ্য ভ্যাকসিন নিয়ে নতুন এক তথ্য উঠে এলো। বলা হয়েছে, শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ কমাতে পুরোপুরি কার্যকর নয় কোনও ভ্যাকসিনই। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে যেহেতু ফুসফুস বা শ্বাসনালীই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত, তাই বলা যেতে পারে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ ক্ষেত্রে কার্যকরী হতে পারে কোভিড ভ্যাকসিন। তবে টিকার ডোজে সংক্রমণ যে পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যাবে তেমনটা এখনও জোর দিয়ে বলা সম্ভব নয়, এমনই দাবি করেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর ডিরেক্টর জেনারেল ডক্টর বলরাম ভার্গব।
আরও পড়ুনঃ কর্মপ্রার্থীদের জন্য সুখবর। লক্ষাধিক কর্মসংস্থানের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।


এই প্রসঙ্গে আইসিএমআর ডিজি বলেছেন, কোনও ভ্যাকসিনই সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোমের মতো শ্বাসের রোগ পুরোপুরি কমাতে পারে না। ভার্গব এও বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) আগেই বলেছে ভ্যাকসিনের তিনটি ভূমিকা আছে—সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মানুষের শরীরে ভ্যাকসিন ডোজের কার্যকারিতা। হু-র দাবি অনুসারে ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন কার্যকরী এটা প্রমাণিত। তবে এর কার্যকারিতা ১০০ শতাংশ করার চেষ্টা চলছে।
আইসিএমআরে অবস্থানকেই সমর্থন প্রসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্তা টেড্রস অ্যাডহানম ঘেব্রেইসাস বলেছিলেন, ভ্যাকসিনের ডোজে করোনা পুরোপুরি নির্মূল হবে এমনটা নয়। বরং ভাইরাসের সংক্রমণে শরীরে যে জটিল রোগ তৈরি হচ্ছে তার থেকে রেহাই মিলবে। একই প্রসঙ্গে শিকাগো ইউনিভার্সিটি দাবি করেছে, সর্দি, জ্বরের মতো করোনাও মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসের অঙ্গ হয়ে যাবে। এইচআইভি, হাম, চিকেনপক্সের মতো সতর্কতা দিয়েই তাকে রোখা যাবে, কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করা হয়ত যাবে না।
রুটিন চেকআপ, বছরে একবার বা দু’বার ভ্যাকসিন অথবা কোভিড প্রতিরোধী ওষুধ খেয়েই ভাইরাসের মোকাবিলা করতে হবে। মাস্ক, পারস্পরিক দূরত্ববিধি তো রয়েছেই। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ঢোকা ও টিকে থাকার কৌশল শিখে ফেলেছে। জিনের গঠন বদলে বদলে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে পৌঁছবার উপায়ও আয়ত্ত করেছে। শুরুতে বিজ্ঞানীরা বলেছেন থুতু-লালাকে আধার বানিয়ে অর্থাৎ রেসপিরেটারি ড্রপলেটের মাধ্যমে অন্তত ৬ ফুট অবধি বাতাসে ভেসে যেতে পারে এই ভাইরাস।


শ্বাসকষ্ট কমাতে পুরোপুরি কার্যকর নয় কোনও ভ্যাকসিনই! পরে ফের পরীক্ষায় জানা যায়, ৬ ফুট নয় বরং রেসপিরেটারি ড্রপলেটের মাধ্যমে ৮ ফুট বা তারও বেশি দূরত্ব ভেসে যেতে পারে এই ভাইরাস। মানুষের শরীরে হোক বা যে কোনও পদার্থের উপরে এদের টিকে থাকার ক্ষমতা বা ইনকিউবেশন পিরিয়ডের সময়কালও বেড়েছে। যেভাবে এই ভাইরাস তার রূপ বদলে ছড়িয়ে পড়ছে তাতে এখনই তার শক্তি কমে যাওযার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ বিজ্ঞানীরা সার্স-কভ-২ ভাইরাসের একাধিক জিনোম বিশ্লেষণ করে দেখেছেন প্রতিটিই একে অপরের থেকে আলাদা। সেই কারণে ভাইরাসের ধরনে এবং তার রোগের উপসর্গেও ক্রমাগত বদল আসছে।
আরও পড়ুনঃ আজও মৃত্যু ৬১ জনের। ফের ২৫ হাজার ছাড়াল চিকিৎসাধীন আক্রান্তের সংখ্যা।
আইসিএমআর দাবি করেছে, ভারতে তিন ধরনের ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের রিপোর্ট ভাল। সেরাম অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালাচ্ছে। ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন ট্রায়ালের প্রথম দুই পর্বের রিপোর্টও প্রশংসনীয়। জানা গিয়েছে, এই ভ্যাকসিনের ডোজে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে। শুধু মানুষ নয় বাঁদরদের শরীরেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলেছে এই ভ্যাকসিন। সব ঠিক থাকলে আগামী বছরের শুরুতে ভারতের বাজারে ভ্যাকসিন চলে আসার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



